খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ই আগস্ট ২০২৬, ৯:৩২ পিএম
অস্ট্রেলিয়ায় ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে ১২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া এবং ভুক্তভোগীকে কাজাখস্তানের দালালচক্রের কাছে বিক্রি করে নির্যাতনের অভিযোগে এক মানবপাচারকারীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১০)। গ্রেপ্তারকৃত আসামির নাম মো. কাইয়ুম (৪৬)। তিনি দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের মুসলিমনগর এলাকার শামসুদ্দিনের ছেলে।
রোববার দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব-১০ এর সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) তপন সরকার কাইয়ুমকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, লালবাগ ক্যাম্পের একটি বিশেষ আভিযানিক দল তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে আসামির অবস্থান শনাক্ত করে। এরপর শনিবার রাতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ ব্রিজের মোড় সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ভুক্তভোগী জুয়েল রানা ও তার স্ত্রী মামলার বাদীর সঙ্গে আসামি কাইয়ুমের পূর্বপরিচয় ছিল। সেই সুবাদে ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর কাইয়ুম বাদী ও তার স্বামীর বাড়িতে যান। তিনি জুয়েল রানাকে এক বছরের মধ্যে ওয়ার্ক পারমিটসহ ভালো বেতনের চাকরিতে অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানোর নিশ্চয়তা দেন। এর জন্য মোট খরচ বাবদ ১২ লাখ টাকার চুক্তি হয়। কাইয়ুমের আশ্বাসে বিশ্বাস রেখে জুয়েল রানা ও তার স্ত্রী বিভিন্ন দফায় নগদ টাকা ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে চুক্তি অনুযায়ী পুরো ১২ লাখ টাকা কাইয়ুমের হাতে তুলে দেন।
তবে টাকা নেওয়ার পর শুরু হয় প্রতারণা। কাইয়ুম ও তার চক্রের সদস্যরা চুক্তি অনুযায়ী জুয়েল রানাকে অস্ট্রেলিয়ায় না পাঠিয়ে কৌশলে মধ্য এশিয়ার দেশ কাজাখস্তানে পাঠায়। সেখানে পৌঁছানোর পর জুয়েল রানাকে স্থানীয় একটি নিষ্ঠুর দালালচক্রের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। কাজাখস্তানের ওই চক্রটি তাকে একটি অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে নির্মম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায় এবং স্বজনদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকে।
পরবর্তী সময়ে জুয়েল রানার স্ত্রী কোনো উপায় না দেখে যশোরের বাঘারপাড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। প্রাপ্ত অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হয়ে গত ৬ এপ্রিল বাঘারপাড়া থানায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান (প্রতিরোধ ও দমন) আইনে কাইয়ুম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে একটি মামলা নথিভুক্ত করা হয়।
মামলা দায়েরের পর প্রধান আসামি কাইয়ুম আত্মগোপনে চলে যান। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পলাতক আসামিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য র্যাব-১০ এর সহযোগিতা চান। র্যাব কাইয়ুমকে গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট বাঘারপাড়া থানায় হস্তান্তর করেছে। মানবপাচারকারী চক্রের অন্যান্য সহযোগীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
মন্তব্য