খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ই আগস্ট ২০২৬, ৯:২৫ পিএম
গাজা যুদ্ধ নিরসনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ১৫ দফার ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পরিকল্পনা পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েল। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, হামাসকে পুরোপুরি অস্ত্র মুক্ত না করা পর্যন্ত গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহারের কোনো প্রশ্নই ওঠে না।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, ট্রাম্প প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এই ১৫ দফার একটি রূপরেখা প্রকাশ করে। তবে জেরুজালেমে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এবং সংশ্লিষ্ট নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনায় নেতানিয়াহু এই প্রস্তাবের মূল শর্তগুলোর তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তিনি পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দেন, গাজা উপত্যকায় হামাসের কোনো অবস্থান কিংবা সামরিক সক্ষমতা বজায় রেখে ইসরায়েল কোনো চুক্তিতে সই করবে না।
নেতানিয়াহু উল্লেখ করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের অচলাবস্থা কাটাতে একাধিক প্রস্তাব পাঠিয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি ধারা ইসরায়েলের কৌশলগত অবস্থানের সঙ্গে মিললেও, প্রস্তাবের মূল ভিত্তি—বিশেষ করে যুদ্ধ থামিয়ে সেনা সরিয়ে নেওয়া এবং গাজার প্রশাসনিক কাঠামোর পরিবর্তন সংক্রান্ত শর্তগুলো ইসরায়েলের কাছে একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি জানান, হামাসের শুধু লোকদেখানো বা কাগজে-কলমে রাজনৈতিক বিলুপ্তি চায় না ইসরায়েল; বরং বাস্তবে তাদের পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ নিশ্চিত করতে হবে। তা না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বর্তমানে এই প্রস্তাবের সংশোধন ও নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেল আবিবের আলোচনা চলছে। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে আঞ্চলিক সংঘাত কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও, ইসরায়েলের এই কঠোর অবস্থান যুদ্ধবিরতির নতুন প্রচেষ্টাকে আবার অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিল।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, গাজা যুদ্ধের শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিকভাবে মধ্যস্থতার চেষ্টা করে আসছে। ওয়াশিংটন একাধিকবার গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর এবং জিম্মি মুক্তির বিনিময়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি শান্তির প্রস্তাব সামনে আনে। ট্রাম্প প্রশাসনের সর্বশেষ এই ১৫ দফা প্রস্তাবে সামরিক অভিযান স্থগিত করা, আন্তর্জাতিক তদারকিতে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং পরবর্তী প্রশাসনিক রূপরেখা তৈরির কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু ইসরায়েলের মূল সামরিক লক্ষ্য—হামাসের সম্পূর্ণ ধ্বংস ও নিরস্ত্রীকরণ—এই প্রস্তাবে সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়নি বলে অভিযোগ তেল আবিবের।
এদিকে গাজায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর টানা হামলা অব্যাহত রয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ও মানবিক সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। খাদ্য, পানি ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে গাজার লাখ লাখ মানুষ যখন দিশেহারা, তখন এই কূটনৈতিক স্থবিরতা সংকটকে আরও গভীর করে তুলছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় আলোচনা আগামী দিনগুলোতে কোন দিকে মোড় নেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে গাজার ভবিষ্যৎ এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি।
মন্তব্য