মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় মেঘনা নদী থেকে এক নারী ও এক যুবকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে গজারিয়া নৌ-পুলিশ। নদীর পানিতে ভেসে থাকা লাশ দুটি দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুটি মরদেহ উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসে।
রোববার (৯ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে গজারিয়া ইউনিয়নের চর রমজানবেগ গ্রাম সংলগ্ন মেঘনা নদীর সীমানা এলাকা থেকে ভাসমান অবস্থায় মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। নৌ-পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, উদ্ধার হওয়া নারীর আনুমানিক বয়স ৩৫ বছর এবং পুরুষের বয়স আনুমানিক ৪৫ বছর। দুটি মরদেহেই নদী ভাঙা ও পানির প্রভাবে তীব্র পচন ধরেছে, যা দেখে ধারণা করা হচ্ছে লাশ দুটি বেশ কিছুদিন ধরে পানিতে ভেসে ছিল।
ঘটনার স্থানে গিয়ে দেখা যায়, উদ্ধার করা নারীর দুই পা শক্ত রশি দিয়ে একসঙ্গে বাঁধা অবস্থায় ছিল। জোড়া লাশ এবং নারীর পা বাঁধা থাকার এ চিত্র দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চাঞ্চল্য ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর প্রাথমিক ধারণা, আনুমানিক এক সপ্তাহ আগে দুর্বৃত্তরা হয়তো কোনো নির্দিষ্ট স্থানে এই নারী ও পুরুষকে নির্মমভাবে হত্যা করে পরিচয় গোপন করার উদ্দেশ্যে লাশ মেঘনা নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছে। তবে এটি কোনো সংঘবদ্ধ পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড কি না বা এর পেছনে অন্য কোনো শত্রুতা রয়েছে কি না—সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারছে না।
গজারিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শরজিৎ কুমার ঘোষ ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, দুপুরে স্থানীয়দের মারফতে খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে চর রমজানবেগ গ্রামের কাছে নদীতে যায় এবং লাশ দুটি উদ্ধার করে। উদ্ধারকালে দেখা যায় নারীর দুই পা রশি দিয়ে বাঁধা ছিল এবং পুরুষের মরদেহেও পচন ধরেছিল।
তিনি আরও জানান, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির কাজ শেষ করে লাশ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদরের হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। নিহতের সঠিক পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। তাঁদের পরিচয় উদঘাটন করতে এবং ঘটনার আসল রহস্য বের করতে ক্রাইম সিন টিমের সহায়তা নেওয়াসহ আইনি তদন্ত কার্যক্রম ইতিমধ্যে শুরু করেছে নৌ-পুলিশ।
মন্তব্য