টাঙ্গাইলে পাঁচ বছর আগে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অপরাধে স্বামী শাহিনুর রহমানকে (৩৭) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে টাঙ্গাইলের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ হাফিজুর রহমান জনাকীর্ণ আদালতে এ চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। ফাঁসির দণ্ডের পাশাপাশি আদালত আসামিকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন।
মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৫ বছর আগে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার সামাদ মিয়ার ছেলে শাহিনুর রহমানের সঙ্গে স্বপ্না আক্তারের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনের শুরু থেকেই তাদের মধ্যে পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে বনিবনা হচ্ছিল না। প্রাইই তাদের ঘরে তীব্র ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকত। ২০১৯ সালের ৫ অক্টোবর ভোরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে পুনরায় বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে শাহীনুর ক্ষিপ্ত হয়ে তার স্ত্রী স্বপ্নার ওপর চড়াও হন এবং লাঠি ও ভারী বস্তু দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকেন। স্বপ্নার ওপর নির্মম নির্যাতন চালিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঘরের মেঝেতে ফেলে রেখে তিনি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
প্রতিবেশীরা টের পেয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় স্বপ্নাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য দ্রুত টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পৌঁছানোর পর সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন।
এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের বাবা মন্নান মিয়া বাদী হয়ে জামাতা শাহিনুর রহমানকে একমাত্র আসামি করে বাসাইল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ দীর্ঘ তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় আদালত মোট ১৩ জন সাক্ষীর জবানবন্দি ও সাক্ষ্যগ্রহণ গ্রহণ করেন। মামলার যাবতীয় নথি, চিকিৎসকের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য প্রমাণ বিশ্লেষণ শেষে আসামি শাহিনুরের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়।
রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে টাঙ্গাইলের কোর্ট ইনস্পেক্টর আজহারুল ইসলাম জানান, বিচারক যখন মৃত্যুদণ্ডের আদেশ পাঠ করছিলেন, তখন আসামি শাহিনুর রহমান কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পরপরই আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে জোরদার নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বিচারপ্রার্থী পরিবারের সদস্যরা এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
মন্তব্য