খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসির মর্যাদাপূর্ণ ‘হল অব ফেম’-এ অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন বিশ্ব ক্রিকেটের তিন কিংবদন্তি তারকা। তাঁরা হলেন ভারতের সাবেক সফল অধিনায়ক ও ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলী, ভারতের নারী ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও ধারাভাষ্যকার আনজুম চোপড়া এবং ইংল্যান্ডের সাবেক বিধ্বংসী ব্যাটার ও অধিনায়ক কেভিন পিটারসেন।
স্কটল্যান্ডের এডিনবরায় জমকালো এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই তিন তারকাকে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ এই সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। মাঠ ও মাঠের বাইরে ক্রিকেটের সার্বিক উন্নয়নে এবং বিশ্বমঞ্চে নিজ নিজ দেশের ক্রিকেটকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার গৌরবময় স্বীকৃতি হিসেবে আইসিসি তাঁদের এই অমর তালিকায় স্থান দিয়েছে।
অনুষ্ঠানে আইসিসির নতুন চেয়ারম্যান জয় শাহ নতুন তিন সদস্যকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, এই বিশ্বজনীন স্বীকৃতি তাঁদের অনন্য ও কালজয়ী কৃতিত্বকে চিরস্মরণীয় করে রাখবে। ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বকালের সেরাদের তালিকায় তাঁদের নাম যুক্ত হওয়াটা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের খেলোয়াড়দের জন্য দারুণ অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ভক্তরা তাঁদের অবদান সবসময় শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা বাঁহাতি ব্যাটার ও অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলী আইসিসির হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্ত হওয়াকে নিজের জীবনের অন্যতম বড় ও গর্বের অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আবেগাপ্লুত সৌরভ বলেন, “খেলার মাঠের সেই রোমাঞ্চকর দিনগুলোর পর ক্রিকেটের প্রকৃত কিংবদন্তিদের সঙ্গে নিজের নাম যুক্ত হওয়াটা সত্যিই একটি বিশেষ এবং অন্যরকম অনুভূতির। এই সম্মান আমাকে ভীষণভাবে সম্মানিত করেছে।”
একইভাবে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ইংল্যান্ডের সাবেক ব্যাটার কেভিন পিটারসেন বলেন, আইসিসির কাছ থেকে এমন বৈশ্বিক সম্মান পাওয়া তাঁর জন্য অত্যন্ত সৌভাগ্যের ও গৌরবের। বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের নানা চড়াই-উতরাইয়ের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বকালের সেরা কিংবদন্তিদের পাশে নিজের নাম দেখতে পেরে তিনি নিজেকে যেমন সম্মানিত বোধ করছেন, তেমনই অত্যন্ত বিনয়ী অনুভব করছেন।
অন্যদিকে ভারতের নারী ক্রিকেটের পটভূমি বদলে দেওয়া সফল ওপেনার আনজুম চোপড়া এই বিরল স্বীকৃতির জন্য আইসিসির প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই গৌরব একা তাঁর নয়। তাঁর দীর্ঘ ক্রিকেটজীবনে অভিভাবক, সতীর্থ, কোচ এবং শুভাকাঙ্ক্ষী যারা বিভিন্নভাবে অবদান রেখেছেন এবং পাশে থেকেছেন, এই বিশ্বমানের সম্মান আসলে তাঁদের সবার প্রাপ্য। এই তিন তারকার অন্তর্ভুক্তিতে আইসিসির হল অব ফেমের মর্যাদা আরও বৃদ্ধি পেল।