খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) তাদের মর্যাদাপূর্ণ হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্ত করেছে ভারতের সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলী, ভারতের নারী দলের সাবেক অধিনায়ক আনজুম চোপড়া এবং ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক কেভিন পিটারসেনকে। স্কটল্যান্ডের রাজধানী এডিনবরায় আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এই তিন কিংবদন্তির হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।
ক্রিকেট ইতিহাসে দীর্ঘ সময় ধরে অনন্য অবদান রাখা খেলোয়াড়দের সম্মান জানাতেই আইসিসি হল অব ফেমের মাধ্যমে এই স্বীকৃতি প্রদান করে। এই তালিকায় জায়গা পাওয়া মানেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একজন খেলোয়াড়ের অবদানকে স্থায়ীভাবে স্বীকৃতি দেওয়া। নতুন তিন সদস্যের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে বিশ্ব ক্রিকেটের ইতিহাসে তাদের অর্জন আরও একবার আনুষ্ঠানিকভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকল।
অনুষ্ঠানে আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহ নতুন সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এই সম্মান কেবল তাদের ব্যক্তিগত সাফল্যের স্বীকৃতি নয়, বরং ক্রিকেটে তাদের রেখে যাওয়া অনন্য অবদানেরও স্বীকৃতি। তিনি বলেন, হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে তারা এমন এক বিশেষ তালিকার অংশ হয়ে গেলেন, যেখানে ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ব্যক্তিত্বদের নাম সংরক্ষিত রয়েছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মও তাদের কীর্তি থেকে অনুপ্রাণিত হবে।
ভারতের অন্যতম সফল অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলী এই স্বীকৃতিকে নিজের ক্রিকেটজীবনের সবচেয়ে গর্বের মুহূর্তগুলোর একটি বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, যেসব কিংবদন্তি ক্রিকেটারের পাশে নিজের নাম যুক্ত হয়েছে, তাদের সঙ্গে একই তালিকায় জায়গা পাওয়া তার জন্য এক অসাধারণ অনুভূতি। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে দেশের হয়ে খেলতে পারা যেমন গর্বের, তেমনি ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সম্মানগুলোর একটি অর্জন করাও তার কাছে বিশেষ মর্যাদার।
সৌরভ গাঙ্গুলী ভারতের ক্রিকেটে এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তার অধিনায়কত্বে ভারতীয় দল বিদেশের মাটিতে লড়াকু মানসিকতার পরিচয় দেয় এবং নতুন প্রজন্মের একাধিক ক্রিকেটার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ পান। পরবর্তীতে প্রশাসক হিসেবেও তিনি ভারতীয় ক্রিকেটে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক কেভিন পিটারসেনও এই সম্মান পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আইসিসির হল অব ফেমে জায়গা পাওয়া যেকোনো ক্রিকেটারের জন্য অসাধারণ অর্জন। ক্রিকেটের কিংবদন্তিদের পাশে নিজের নাম দেখতে পেরে তিনি নিজেকে সম্মানিত ও একই সঙ্গে বিনয়ী মনে করছেন। আক্রমণাত্মক ব্যাটিং এবং ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার সামর্থ্যের কারণে পিটারসেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দীর্ঘদিন আলোচিত ছিলেন।
অন্যদিকে ভারতের নারী ক্রিকেটের পথিকৃৎদের অন্যতম আনজুম চোপড়া এই স্বীকৃতিকে নিজের একার অর্জন হিসেবে দেখতে রাজি নন। তিনি আইসিসিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তার ক্রিকেটজীবনে যেসব সতীর্থ, কোচ, পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষী পাশে ছিলেন, এই সম্মান তাদের সবার। নারী ক্রিকেটের বিকাশে নিজের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ায় তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
আইসিসির হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্তি কেবল অতীতের সাফল্যের মূল্যায়ন নয়, বরং ক্রিকেটের ইতিহাসকে সংরক্ষণ করারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। নতুন এই তিন সদস্যের অন্তর্ভুক্তি প্রমাণ করে যে পুরুষ ও নারী—উভয় বিভাগের ক্রিকেটারদের অবদানই সমান গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। বিশ্ব ক্রিকেটে তাদের অর্জন, নেতৃত্ব এবং প্রভাব আগামী দিনেও ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।