আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, প্রবাসী আয়, বিদেশে ভ্রমণ, শিক্ষা এবং চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মার্কিন ডলার, ব্রিটিশ পাউন্ড, ইউরো, ভারতীয় রুপি, অস্ট্রেলীয় ডলারসহ বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার বিনিময়মূল্য জানা থাকলে লেনদেনের পরিকল্পনা করা সহজ হয়।
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের জন্য সরবরাহ করা তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন ডলারের ক্রয়মূল্য ১২৩ টাকা ৬০ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ১২৩ টাকা ৭২ পয়সা। অন্যদিকে, ব্রিটিশ পাউন্ডের ক্রয়মূল্য ১৬৪ টাকা ৭৩ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ১৬৪ টাকা ৯২ পয়সা। ইউরোর ক্ষেত্রে ক্রয়মূল্য ১৩৮ টাকা ৯১ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ১৩৯ টাকা ৬ পয়সা।
তবে প্রকাশিত তথ্যের সর্বশেষ হালনাগাদের তারিখ ২৫ অক্টোবর ২০২৬। ফলে নিচের হারগুলোকে ২৮ অক্টোবরের নিশ্চিত হালনাগাদ হার হিসেবে বিবেচনা করার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারীর কাছ থেকে যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন।
আজকের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার
নিচে সরবরাহ করা তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার ক্রয় ও বিক্রয়মূল্য তুলে ধরা হলো।
| মুদ্রার নাম | ক্রয়মূল্য (টাকা) | বিক্রয়মূল্য (টাকা) |
|---|---|---|
| মার্কিন ডলার | ১২৩.৬০ | ১২৩.৭২ |
| ব্রিটিশ পাউন্ড | ১৬৪.৭৩ | ১৬৪.৯২ |
| ইউরো | ১৩৮.৯১ | ১৩৯.০৬ |
| ভারতীয় রুপি | ১.৩০ | ১.৩০ |
| অস্ট্রেলীয় ডলার | ৮৫.৮৩ | ৮৫.৯৯ |
| সিঙ্গাপুর ডলার | ৯৬.৫৯ | ৯৬.৬৯ |
| চীনা ইউয়ান | ১৮.৪৮ | ১৮.৫১ |
| জাপানি ইয়েন | ০.৭৮ | ০.৭৮ |
সূত্র হিসেবে মূল সরবরাহকৃত তথ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের উল্লেখ রয়েছে। তবে হারগুলোর স্বাধীনভাবে হালনাগাদ যাচাই করা হয়নি।
ক্রয়মূল্য ও বিক্রয়মূল্য বলতে কী বোঝায়?
বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার বুঝতে ক্রয়মূল্য ও বিক্রয়মূল্যের পার্থক্য জানা জরুরি।
-
ক্রয়মূল্য: কোনো ব্যাংক বা অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান গ্রাহকের কাছ থেকে বিদেশি মুদ্রা কিনলে যে হারে বাংলাদেশি টাকা দেয়।
-
বিক্রয়মূল্য: কোনো ব্যাংক বা অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান গ্রাহকের কাছে বিদেশি মুদ্রা বিক্রি করলে যে হারে বাংলাদেশি টাকা নেয়।
উদাহরণ হিসেবে, তালিকায় মার্কিন ডলারের বিক্রয়মূল্য ১২৩ টাকা ৭২ পয়সা ধরা হলে ১০০ ডলার কিনতে হিসাব অনুযায়ী ১২ হাজার ৩৭২ টাকা লাগবে। তবে বাস্তবে ব্যাংক বা মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত হার, কমিশন এবং অন্যান্য প্রযোজ্য চার্জের কারণে মোট খরচ ভিন্ন হতে পারে।
মুদ্রার বিনিময় হার কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বৈদেশিক মুদ্রার হার পরিবর্তিত হলে আমদানি ব্যয়, বিদেশে পড়াশোনার খরচ, চিকিৎসা, পর্যটন এবং প্রবাসীদের অর্থ পাঠানোর হিসাবেও প্রভাব পড়ে। বিশেষ করে ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্য কমলে আমদানিনির্ভর পণ্য ও সেবার ব্যয় বাড়তে পারে। অন্যদিকে, বিদেশ থেকে পাঠানো অর্থের বিপরীতে বেশি বাংলাদেশি টাকা পাওয়া যেতে পারে, যদিও প্রকৃত সুবিধা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট মুদ্রার বিনিময় হার ও লেনদেনের শর্তের ওপর।
মুদ্রার হার প্রতিদিন, এমনকি একই দিনেও ব্যাংকভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত নির্দেশক হার এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকের গ্রাহক পর্যায়ের লেনদেনের হার এক নাও হতে পারে। তাই ডলার বা অন্য কোনো বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সর্বশেষ হার যাচাই করা সবচেয়ে নিরাপদ।
দ্রষ্টব্য: এখানে দেওয়া বিনিময় হারগুলো সরবরাহ করা তথ্যের ভিত্তিতে সাজানো হয়েছে। ২৮ অক্টোবর ২০২৬-এর প্রকৃত লেনদেনের হার নিশ্চিত করতে হালনাগাদ ব্যাংক রেট যাচাই করুন।


