বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এক দিনে বিপুলসংখ্যক রোগীর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনা ডেঙ্গু মোকাবিলায় সতর্কতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে। আক্রান্তদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রোগের বিস্তার কমাতে মশা নিয়ন্ত্রণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে কারও কারও শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে পারে। বিশেষ করে জ্বরের তীব্রতা কমে যাওয়ার পরও রোগীর অবস্থা খারাপ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই জ্বর হলেই অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাত, অতিরিক্ত দুর্বলতা কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি পরিবার ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। এডিস মশা সাধারণত জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে বংশবিস্তার করে। বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, পানির ট্যাংক ও অন্যান্য স্থানে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা প্রয়োজন। যেসব পাত্রে পানি জমে থাকতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরীক্ষা করে পরিষ্কার রাখলে মশার প্রজননস্থল কমানো সম্ভব।
এ ছাড়া দিনের বেলাতেও মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকা জরুরি। মশারি ব্যবহার, শরীর ঢাকা পোশাক পরা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মশা প্রতিরোধক ব্যবহার ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে।
এক দিনে ৯ জনের মৃত্যু এবং প্রায় দুই হাজার রোগীর হাসপাতালে ভর্তির তথ্য পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরছে। তবে ডেঙ্গুর সামগ্রিক পরিস্থিতি, মোট মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ চিত্র পেতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ধারাবাহিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে রোগী শনাক্ত, চিকিৎসা এবং মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণও জরুরি।


