ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হওয়ার আগে পাকিস্তানের তারকা ব্যাটার বাবর আজমের ফর্ম নিয়ে উদ্বিগ্ন নন দলের ব্যাটিং কোচ মাইক স্মিথ। সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে ভালো শুরু করেও বড় ইনিংস খেলতে না পারলেও বাবরের ব্যাটিংয়ের ধরন ও বল মোকাবিলার দক্ষতায় আস্থা রাখছেন তিনি। কোচের বিশ্বাস, বড় রান পাওয়ার জন্য বাবরকে খুব বেশি অপেক্ষা করতে হবে না।
লাহোরে মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজের ম্যাচে বড় ব্যবধানে হারের মুখে পড়ে পাকিস্তান। ব্যাটিং বিপর্যয়ে মাত্র ১১০ রানে অলআউট হয়ে যায় দলটি। জবাবে ৮ উইকেট হাতে রেখেই সহজ জয় তুলে নেয় শ্রীলঙ্কা। পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপের এমন ভরাডুবির মধ্যেও দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ২৯ রান করেন বাবর আজম। তবে তাঁর এই ইনিংসও দলকে বড় সংগ্রহ এনে দিতে পারেনি।
চলতি সিরিজে এখন পর্যন্ত চার ইনিংসে ব্যাট করে বাবরের সংগ্রহ ১১৮ রান। কোনো ইনিংসেই তিনি হাফ সেঞ্চুরির দেখা পাননি। প্রতিবারই উইকেটে এসে কিছুটা সময় নিয়ে ব্যাটিংয়ের ছন্দ খুঁজে পেয়েছেন, কিন্তু সেই শুরুকে বড় ইনিংসে রূপ দিতে পারেননি পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক। ফলে ফাইনালের আগে তাঁর ফর্ম নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
তবে এই পরিস্থিতিকে বড় কোনো সমস্যা হিসেবে দেখছেন না ব্যাটিং কোচ মাইক স্মিথ। তাঁর মতে, বাবর ক্রিজে থিতু হওয়ার যে দক্ষতা দেখাচ্ছেন, তা একজন আন্তর্জাতিক মানের ব্যাটারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজন শুধু সেই ভালো শুরুকে দীর্ঘ ইনিংসে পরিণত করা।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) ওয়েবসাইটকে দেওয়া বক্তব্যে স্মিথ বাবরের ব্যাটিং নিয়ে নিজের আস্থার কথা জানান। তিনি বলেন, ক্রিকেটে ক্রিজে থিতু হওয়াই সবচেয়ে কঠিন কাজগুলোর একটি, অথচ বাবর সেটি সহজেই করতে পারছেন। তাঁর কোনো একটি ইনিংস যদি বড় সেঞ্চুরিতে পরিণত হতো, তাহলে বর্তমান ফর্ম নিয়ে এমন আলোচনা হয়তো উঠত না।
স্মিথের মতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিটি ম্যাচে সেরা পারফরম্যান্স করা সম্ভব নয়। একজন ব্যাটার কতটা ভালো খেলছেন, তা বিচার করতে শুধু রানসংখ্যা দেখলেই চলে না; বলের সঙ্গে তাঁর সংযোগ, শট খেলার সময় নিয়ন্ত্রণ এবং উইকেটে ব্যাটিংয়ের স্বাচ্ছন্দ্যও বিবেচনায় রাখতে হয়। বাবরের ব্যাটিংয়ে এসব ইতিবাচক দিক দেখতে পাচ্ছেন তিনি।
কোচের বিশ্বাস, বাবর বড় স্কোর থেকে খুব বেশি দূরে নেই। একবার বড় ইনিংস পেয়ে গেলে তাঁর আত্মবিশ্বাস আরও বাড়বে এবং সেটি দলের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। ফাইনালের মতো বড় ম্যাচে অভিজ্ঞ এই ব্যাটারের কাছ থেকে একটি কার্যকর ইনিংস পাকিস্তানের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা বাড়াতে পারে।
শ্রীলঙ্কার পেস আক্রমণে বিপর্যস্ত পাকিস্তান
মঙ্গলবারের ম্যাচে পাকিস্তানের ব্যাটিং ব্যর্থতার অন্যতম কারণ ছিলেন শ্রীলঙ্কার পেসার দিলশান মাদুশঙ্কা। নতুন বল হাতে ইনিংসের শুরুতে যেমন কার্যকর ছিলেন, তেমনি শেষ দিকেও পাকিস্তানের ব্যাটারদের চাপে রাখেন তিনি। দুর্দান্ত বোলিংয়ে পাঁচ উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের ইনিংস গুটিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখেন এই বাঁহাতি পেসার।
মাত্র ১১০ রানে পাকিস্তানের অলআউট হয়ে যাওয়া দলের ব্যাটিংয়ের দুর্বলতাগুলো সামনে এনেছে। ব্যাটাররা বড় জুটি গড়তে পারেননি, আবার ব্যক্তিগতভাবে কেউই ইনিংসকে দীর্ঘ করার মতো অবদান রাখতে পারেননি। বাবর ২৯ রান করে দলের সর্বোচ্চ স্কোরার হলেও তাঁর ইনিংসও পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল না।
ফাইনালের ঠিক আগে এমন হার পাকিস্তানের জন্য আদর্শ প্রস্তুতি নয়। তবে কোচ স্মিথ মনে করেন, একটি পরাজয় দিয়ে পুরো দলের সামর্থ্য বিচার করা উচিত হবে না। তাঁর মতে, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ত্রিদেশীয় সিরিজে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলতে গেলে কোনো না কোনো পর্যায়ে হারের মুখে পড়া অস্বাভাবিক নয়।
ফাইনালে চাপ সামলানোই হবে মূল চ্যালেঞ্জ
শ্রীলঙ্কার কাছে হারের প্রভাব ফাইনালে পড়বে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে স্মিথ স্পষ্ট করেছেন, দুই ম্যাচের পরিস্থিতি আলাদা। তাঁর মতে, ফাইনালে কে শিরোপা জিতবে, তা নির্ধারণ করবে মাঠে চাপ সামলানোর ক্ষমতা এবং নিজেদের পরিকল্পনা কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে।
স্মিথের বক্তব্য, উচ্চমানের ক্রিকেটে প্রতিটি দলই কোনো না কোনো সময় হোঁচট খায়। তাই সর্বশেষ ম্যাচের হারকে অতিরিক্ত গুরুত্ব না দিয়ে ফাইনালের প্রস্তুতিতে মনোযোগ দেওয়াই বেশি জরুরি। বিশেষ করে শিরোপার লড়াইয়ে স্নায়ুচাপ নিয়ন্ত্রণ, ব্যাটিংয়ে দায়িত্বশীলতা এবং বোলিংয়ে ধারাবাহিকতা ধরে রাখা দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হবে।
পাকিস্তানের সামনে এখন ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ। ব্যাটিংয়ে বাবর আজমের পাশাপাশি অন্যদেরও দায়িত্ব নিতে হবে, যাতে একজন বা দুজন ব্যাটারের ওপর পুরো দলের নির্ভরতা না থাকে। অন্যদিকে শ্রীলঙ্কা চাইবে আগের ম্যাচের সাফল্যকে কাজে লাগিয়ে ফাইনালেও পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ে চাপ তৈরি করতে।
সূচি অনুযায়ী, শনিবার, ৩১ অক্টোবর, লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে মুখোমুখি হওয়ার কথা পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার। দুই দলের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কে চাপ ভালোভাবে সামলাতে পারে, সেটিই শিরোপা নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। পাকিস্তানের জন্য বাবরের ব্যাটে বড় ইনিংস আসা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি শ্রীলঙ্কার জন্য নিজেদের বোলিংয়ের ধার বজায় রাখাও হবে বড় চ্যালেঞ্জ।



