খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
কেশবপুরে চুরি হওয়া একটি মোটরসাইকেল উদ্ধারকে কেন্দ্র করে পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মোটরসাইকেলটি পুনরুদ্ধার করলেও এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার ভোরে। স্থানীয় সূত্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, হাসানপুর গ্রামের আশরাফুজ্জামান রুমি নামের এক ব্যক্তির মোটরসাইকেল তার বাড়ি থেকে চুরি হয়ে যায়। তিনি স্থানীয়ভাবে রাজনৈতিক একটি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানা গেছে। চুরির খবর পাওয়ার পর চিংড়া পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক নজরুল ইসলাম অনুসন্ধান শুরু করেন এবং প্রযুক্তি ও তথ্যের ভিত্তিতে মোটরসাইকেলটির অবস্থান শনাক্ত করেন।
পরে অভিযান চালিয়ে চিংড়া গ্রামের আবদুর রশিদের বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়। তবে উদ্ধার কার্যক্রম শেষ হওয়ার আগেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
সকাল সাড়ে আটটার দিকে আশরাফুজ্জামান রুমি ও তাঁর সঙ্গে থাকা প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন যুবক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই মোটরসাইকেলটি তাদের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানান। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও কাগজপত্র সম্পন্ন না করে হস্তান্তর সম্ভব নয় বলে জানান।
এতেই শুরু হয় বাগ্বিতণ্ডা। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা পুলিশের ওপর চড়াও হয়ে পড়ে এবং সহকারী উপপরিদর্শক নজরুল ইসলামকে মারধর করে মোটরসাইকেলটি জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়। এতে তিনি আহত হন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে যশোর জেলা পুলিশের কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রোকসানা খাতুনের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযান শেষে মোটরসাইকেলটি পুনরায় উদ্ধার করা সম্ভব হয় এবং ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আবদুর রশিদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঘটনার তদন্তে জানা গেছে, পুলিশের ওপর হামলায় সরাসরি জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে প্রযুক্তিগত ও মাঠ পর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদেরও দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সহকারী উপপরিদর্শক নজরুল ইসলাম জানান, তিনি নিয়ম অনুযায়ী উদ্ধার করা মোটরসাইকেলটি থানায় নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু একদল লোক হঠাৎ করেই তাঁর ওপর হামলা চালায় এবং তিনি শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হন।
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রোকসানা খাতুন বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি রাখা হয়েছে। পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিচে ঘটনার সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| ঘটনার স্থান | কেশবপুর, যশোর |
| ঘটনা | মোটরসাইকেল উদ্ধার নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা |
| আহত | সহকারী উপপরিদর্শক নজরুল ইসলাম |
| গ্রেপ্তার | আবদুর রশিদ |
| জড়িত জনতা | প্রায় ৪০–৫০ জন |
| বর্তমান অবস্থা | মোটরসাইকেল উদ্ধার, তদন্ত চলমান |
এ ঘটনায় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে এবং পুলিশ বলছে, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।