দেশটির রাজধানী কাবুল, নানগারহার প্রদেশ এবং আশপাশের আরও কয়েকটি এলাকায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়। হঠাৎ কম্পন অনুভূত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। তবে ভূমিকম্পের পরপরই কোনো প্রাণহানি, আহত হওয়ার ঘটনা কিংবা অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।
ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্পন কেন্দ্রের (ইএমএসসি) তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫.২। তবে ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল, গভীরতা এবং ঠিক কখন এটি আঘাত হেনেছে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশ এবং উত্তরাঞ্চলের গিলগিত-বালতিস্তানের বিভিন্ন স্থানেও ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। পাকিস্তানেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
আফগানিস্তান ও পাকিস্তান—দুই দেশই ভূমিকম্পের ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে অবস্থিত। এ অঞ্চলে ভারতীয় ও ইউরেশীয় ভূত্বকীয় পাতের পারস্পরিক সংঘর্ষের কারণে নিয়মিত ভূকম্পন ঘটে। বিশেষ করে আফগানিস্তানের হিন্দুকুশ পর্বতাঞ্চল এবং পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলে ভূমিকম্পের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি।
৫.২ মাত্রার ভূমিকম্পকে সাধারণভাবে মাঝারি মাত্রার কম্পন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে এর ফলে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে, তা নির্ভর করে ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল, কেন্দ্রের গভীরতা, জনবসতি থেকে দূরত্ব এবং ভবনগুলোর নির্মাণমানের ওপর। অগভীর ভূমিকম্প হলে তুলনামূলকভাবে দূরবর্তী এলাকাতেও শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হতে পারে।
ভূমিকম্পের পরপরই ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া না গেলেও দুর্গম এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি যাচাই করতে সময় লাগতে পারে। তাই তাৎক্ষণিক কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর না পাওয়াকে চূড়ান্ত পরিস্থিতির বিবরণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
এদিকে, ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষের জন্য জরুরি প্রস্তুতি ও নিরাপত্তাবিধি মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ। কম্পন শুরু হলে ঘরের ভেতরে থাকলে মজবুত টেবিলের নিচে আশ্রয় নেওয়া, জানালা ও ভারী আসবাব থেকে দূরে থাকা এবং লিফট ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। কম্পন থামার পর ভবনে ফাটল বা অন্য কোনো ক্ষতির লক্ষণ দেখা গেলে সতর্কতার সঙ্গে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়া প্রয়োজন।
সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান—কোনো দেশেই এই ভূমিকম্পে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর নিশ্চিত করা হয়নি।


