প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকা থেকে কুয়াকাটার উদ্দেশে ছেড়ে আসা বাসটি বান্দ্রা বাজার এলাকায় পৌঁছানোর পর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে উল্টে যায়। পরে বাসটি প্রায় ২০০ মিটার দূরে গিয়ে থামে। দুর্ঘটনার পর বাসের ভেতরে থাকা যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অনেকে গুরুতর আঘাত পান। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে উদ্ধারকাজে অংশ নেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরাও আহতদের উদ্ধারে সহায়তা করেন।
আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে আমতলী ও কলাপাড়া হাসপাতালসহ সংশ্লিষ্ট চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানো হয়। তাঁদের মধ্যে গুরুতর আহত তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, আহত অনেক যাত্রীর হাত-পা ভেঙে গেছে। তবে তাঁদের সবার বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
দুর্ঘটনার পর বাসটির চালক ও হেলপার ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি জব্দ করা হয়েছে। চালক ও হেলপার পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে দুর্ঘটনার পর বান্দ্রা মোড়ের সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এলাকাটি দুর্ঘটনাপ্রবণ হলেও সেখানে প্রয়োজনীয় সড়ক নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয়। বিশেষ করে সিগন্যাল বাতি না থাকায় যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন তাঁরা।
এলাকাবাসীর দাবি, দুর্ঘটনা কমাতে দ্রুত বান্দ্রা মোড়ে সিগন্যাল ল্যাম্পপোস্ট স্থাপন করতে হবে। পাশাপাশি যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর গতিরোধক নির্মাণ এবং মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ নিতে হবে। তাঁদের মতে, ব্যস্ত এই সড়কে নিরাপদে যান চলাচল নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন জরুরি।
সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে চালকের সতর্কতা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং নির্ধারিত নিয়ম মেনে গাড়ি চালানোর পাশাপাশি যানবাহনের নিরাপদ পরিচালনা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রায় চালকের ক্লান্তি বা ঘুম ঘুম ভাব দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে আমতলীর এই দুর্ঘটনায় চালক ঘুমিয়ে ছিলেন এবং হেলপার বাস চালাচ্ছিলেন—এমন অভিযোগের সত্যতা সংশ্লিষ্ট তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে দুর্ঘটনাপ্রবণ মোড়গুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক সাইন, সিগন্যাল, গতিনিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা ও সড়কের নকশাগত উন্নয়ন করা গেলে এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো সম্ভব। বান্দ্রা বাজার এলাকায় সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের দাবিগুলো বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।


