২০২৬ সালের প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ডের ক্রীড়া বিভাগে বিজয়ী হিসেবে মেসির নাম ঘোষণা করা হয় গত ৩ জুন। এই পুরস্কারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে তাঁর অসামান্য অবদানকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে। ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচিত মেসির ক্যারিয়ারে এই সম্মাননা নতুন একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় যোগ করতে যাচ্ছে।
স্পেনের ওভিয়েদো শহরের তেয়াত্রো কাম্পোয়ামোরে অনুষ্ঠিত হবে পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান। এতে স্পেনের রাজপরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। রাজপরিবারের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক সম্মাননা বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে স্বীকৃতি দেয়।
এবারের পুরস্কারটি মেসির জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। আয়োজকদের বিবেচনায়, মাঠে তাঁর ধারাবাহিক পারফরম্যান্স, পেশাদারত্ব, বিনয় এবং দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অর্জিত সাফল্যের পাশাপাশি মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে তাঁর দীর্ঘদিনের দাতব্য উদ্যোগ বিচারকদের মূল্যায়নে গুরুত্ব পেয়েছে।
প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস ফাউন্ডেশন গত ৩ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে মেসিকে ক্রীড়া বিভাগের বিজয়ী ঘোষণা করে। এ বছর এই বিভাগে মনোনয়ন পাওয়া ২৭ জনের মধ্য থেকে তাঁকে নির্বাচিত করা হয়। আয়োজকদের এই সিদ্ধান্তে ফুটবলে তাঁর অবদানের পাশাপাশি সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকার বিষয়টিও প্রতিফলিত হয়েছে।
১৯৮১ সালে প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ডের যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিজ্ঞান, সাহিত্য, শিল্পকলা, সামাজিক বিজ্ঞান, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং খেলাধুলাসহ মোট আটটি বিভাগে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এই সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে। পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে তুলে দেওয়া হয় বিখ্যাত স্প্যানিশ শিল্পী হুয়ান মিরোর নকশা করা একটি ভাস্কর্য। এর সঙ্গে থাকে সনদ, ব্যাজ এবং ৫০ হাজার ইউরো অর্থমূল্যের পুরস্কার।
ফুটবলের সঙ্গে মেসির সম্পর্ক বহু বছরের। ক্লাব ফুটবলে বার্সেলোনার হয়ে দীর্ঘ সময় খেলে তিনি বিশ্বজুড়ে পরিচিতি অর্জন করেন। পরে প্যারিস সাঁ-জেরমাঁ হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেন তিনি। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়েও তাঁর সাফল্যের তালিকা সমৃদ্ধ। ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা এবং ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে জাতীয় দলের হয়ে বড় দুটি শিরোপা অর্জন করেন এই ফরোয়ার্ড। বিশ্বকাপ জয়ের মধ্য দিয়ে তাঁর দীর্ঘদিনের একটি বড় স্বপ্নও পূরণ হয়।
তবে মেসির পরিচিতি কেবল মাঠের সাফল্যে সীমাবদ্ধ নয়। শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কল্যাণে কাজ করার লক্ষ্যে তাঁর প্রতিষ্ঠিত লিও মেসি ফাউন্ডেশন বিভিন্ন উদ্যোগ পরিচালনা করে আসছে। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য সহায়তা এবং স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়ানোর মতো কর্মকাণ্ড তাঁর সামাজিক অবদানের অংশ।
প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ড গ্রহণের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে মেসির ক্রীড়াজীবন ও মানবিক কর্মকাণ্ড আবারও আলোচনায় আসবে। বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় এই ফুটবল তারকার জন্য সম্মাননাটি যেমন ব্যক্তিগত অর্জন, তেমনি খেলাধুলার বাইরেও সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার গুরুত্ব তুলে ধরার একটি উপলক্ষ।


