খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
ঢাকা, ৭ জুলাই ২০২৬: দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও আর্থিক সক্ষমতার কথা বিবেচনা করে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রণীত নতুন পে স্কেলের মূল রূপরেখায় বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। সরকারের পক্ষে এই মুহূর্তে নতুন কাঠামো পুরোপুরি একবারে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোতে কিছু কাটছাঁট এবং তা তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে প্রশাসন।
সোমবার (৬ জুলাই) সচিবালয়ে এ সংক্রান্ত সচিব কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে নতুন পে স্কেলের বিভিন্ন গ্রেডের মূল বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার পরিমার্জন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তবে এই বৈঠকে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সুপারিশমালা চূড়ান্ত রূপ দিতে আরও অন্তত দুটি বৈঠকের প্রয়োজন হতে পারে। সচিব কমিটির এই সুপারিশ চূড়ান্ত হওয়ার পর তা অনুমোদনের জন্য অর্থমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে। সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদনের পরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশ করা হবে।
সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্রগুলোর তথ্যমতে, দেশের বর্তমান সামষ্টিক অর্থনৈতিক চাপ এবং সরকারের রাজস্ব আয়ের গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করে সচিব কমিটি ধাপে ধাপে পে স্কেল বাস্তবায়নের সুপারিশ করতে যাচ্ছে। এই সিদ্ধান্ত আর্থিক চাপ কিছুটা কমালেও মাঠ পর্যায়ে এর প্রয়োগ নিয়ে প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক কিছু জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে বিভিন্ন গ্রেডের বেতন নির্ধারণ, ইনক্রিমেন্ট হিসাব এবং অ্যাকাউন্টিং সফটওয়্যার আইবাস++ (iBAS++)-এ নতুন তথ্য সংযোজনের ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দিতে পারে। তবে সচিব কমিটির পক্ষ থেকে এসব সমস্যা যতটা সম্ভব সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনার জন্য বিশেষ দিকনির্দেশনা ও সুপারিশ তৈরি করা হচ্ছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন পে স্কেল চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে বলেই গণ্য করা হবে। অর্থাৎ, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ১ জুলাই থেকেই নতুন কাঠামোর অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়ার আইনি অধিকার পাবেন। তবে এর বাস্তব অর্থ পরিশোধ বা এরিয়া (বকেয়া) প্রদানের প্রক্রিয়াটি সরকারের আর্থিক সক্ষমতা অনুযায়ী ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হতে পারে।
সচিব কমিটির এক প্রভাবশালী সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান:
“সচিব কমিটি এখনো সরকারের কাছে চূড়ান্ত সুপারিশমালা জমা দেয়নি। আমাদের আরও কিছু তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনার জন্য সময়ের প্রয়োজন। বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এক বা দুই ধাপে এই বিশাল আর্থিক দায়ভার সামলানো কঠিন হতে পারে। তাই প্রয়োজন হলে এটি তিন ধাপেও বাস্তবায়ন করা হতে পারে, যাতে সরকারের ওপর এককালীন বড় কোনো চাপ না পড়ে।”
নতুন অর্থবছর ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত নতুন পে স্কেলের আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় সাধারণ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে এক ধরনের সুপ্ত অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যদিও সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে বারবার আশ্বস্ত করা হচ্ছে যে, নতুন পে স্কেল ১ জুলাই থেকেই কার্যকর ধরা হবে, তবুও দৃশ্যমান কোনো প্রজ্ঞাপন না থাকায় মাঠ পর্যায়ে বিভ্রান্তি কাটছে না।
গেজেট প্রকাশে বিলম্বের কারণে নতুন বেতন কাঠামো কেমন হবে, ভাতাসংক্রান্ত সুবিধা কতটুকু কমবে বা বাড়বে, এবং কাটছাঁটের পরিমাণ ঠিক কতখানি—এসব প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট কোনো উত্তর মিলছে না।
এই বিলম্বের কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে ও উদ্বেগে পড়েছেন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। সাধারণত কর্মরত ব্যক্তিরা অভ্যন্তরীণ সূত্রে কিছু তথ্য জানতে পারলেও, অবসরপ্রাপ্ত পেনশনভোগীরা প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত না থাকায় কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা আনুষ্ঠানিক তথ্য পাচ্ছেন না। নতুন পে স্কেলে পেনশন ও গ্র্যাচুইটির সুবিধা কীভাবে পুনর্নির্ধারণ করা হবে, তা নিয়ে তারা গভীর উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। সরকার দ্রুত এই গেজেট প্রকাশ করে সব পক্ষের আশঙ্কা দূর করবে—এমনটাই এখন সংশ্লিষ্ট সকলের প্রত্যাশা।