৩৫ শতাংশ পাল্টা শুল্কের চাপ থেকে মুক্তি পেতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছাতে চায় বাংলাদেশ। তবে এখনও মার্কিন বাণিজ্য দপ্তর (ইউএসটিআর) চূড়ান্ত আলোচনা শুরুর নির্দিষ্ট সময় জানায়নি। এ অবস্থায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তৃতীয় ও শেষ দফা আলোচনার সময়সূচি জানতে ইমেইল পাঠানো হলেও জবাবে জানানো হয়েছে আরও অপেক্ষা করতে হবে। ফলে আজ রোববার নয়, আগামীকাল সোমবার চূড়ান্ত অবস্থানপত্র পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, মার্কিন প্রশাসনের প্রস্তাব ও দাবিগুলো বিশ্লেষণ করে দেশে ফিরে আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক করেছে প্রতিনিধিদল। এসব বৈঠকে অংশ নেন ব্যবসায়ী, অর্থনীতিবিদ ও বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরাও। তাঁদের মতামতের ভিত্তিতে অবস্থানপত্রের খসড়া প্রস্তুত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আলোচনার সঙ্গে যুক্ত একাধিক কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের দাবির মধ্যে দুটি ভাগ স্পষ্ট—একটি বাণিজ্যসংক্রান্ত, অন্যটি অ-বাণিজ্যসংক্রান্ত। বাণিজ্য সংক্রান্ত বিষয়গুলো আলোচনার মধ্যেই সমাধান হয়েছে এবং তা অনুসারে বাংলাদেশ প্রস্তুতি নিয়েছে। তবে অ-বাণিজ্য ইস্যুতে সিদ্ধান্ত নিতে সরকারের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক মহলের অনুমোদন প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন আলোচকরা।
এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাণিজ্যসচিব মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, “আমরা মার্কিন বাণিজ্য দপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। তারা কিছুটা সময় চেয়েছে, তাই রোববারের পরিবর্তে সোমবার অবস্থানপত্র পাঠানো হবে।”
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, মার্কিন পক্ষের চাওয়া অনুযায়ী কোন কোন বিষয়ে বাংলাদেশ কতটুকু ছাড় দিতে পারবে, কোথায় কৌশলী দর-কষাকষি যথেষ্ট—সব দিক বিবেচনায় একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানপত্র তৈরি করা হয়েছে। অ-বাণিজ্য ইস্যুতে যেখানে সম্মতি, কোথায় অসম্মতি—উভয় দিকই তাতে প্রতিফলিত হয়েছে। তবে যেহেতু এটি একটি রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের চুক্তি, তাই চূড়ান্ত অনুমোদন দিতে হবে উপদেষ্টা পরিষদ তথা প্রধান উপদেষ্টাকে। সংশ্লিষ্টরা জানান, আজ রোববারই প্রধান উপদেষ্টার কাছে সময় চেয়ে দেখা করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে দ্রুত অনুমোদন নিয়ে সোমবার অবস্থানপত্র পাঠানো যায়।
খবরওয়ালা/টিএস



