সাভারের আশুলিয়ায় একটি তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে একই পরিবারের তিনজনের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রী ও তাঁদের এক নবজাতক সন্তান রয়েছে। খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো এলাকায় গভীর শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে আশুলিয়ার মধ্য জামগড়া এলাকায় অবস্থিত হাজী হযরত আলীর চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় অধিবাসীদের সূত্রে জানা যায়, মধ্যরাতে ওই ফ্ল্যাট থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকলে প্রতিবেশীদের মনে সন্দেহ জাগে। ঘরটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ দেখে তারা তাৎক্ষণিক বিষয়টি বাড়ির মালিককে জানান এবং স্থানীয় থানা পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশের একটি দল গভীর রাতে অর্থাৎ দেড়টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে স্বামী, স্ত্রী ও তাঁদের সদ্য ভূমিষ্ঠ এক নবজাতকের লাশ পড়ে থাকতে দেখে।
সুরতহাল প্রতিবেদনে দেখা যায়, উদ্ধারের সময় স্বামীর গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, কয়েক দিন আগেই তাঁদের হত্যা করে ঘর বাইরে থেকে তালা দিয়ে ঘাতকেরা পালিয়ে যায়। এতে লাশগুলো পচে অর্ধগলিত রূপ নেয়। মর্মান্তিক এই জোড়া খুনের ঘটনা দেখতে ভোর থেকেই বাড়ির সামনে কৌতুহলী মানুষের ভিড় জমে। স্থানীয় অধিবাসীরা দ্রুত এই অপরাধীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক আলামত ও ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা বিশ্লেষণ করে একে স্পষ্ট হত্যাকাণ্ড বলেই মনে করা হচ্ছে। নিহতরা পরস্পর স্বামী-স্ত্রী ও সন্তান বলে ধারণা করা হলেও তাঁদের প্রকৃত নাম, স্থায়ী ঠিকানা ও পেশা উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে মাঠে নেমেছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একাধিক বিশেষায়িত টিম। সিআইডির (CID) ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দল ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল থেকে ফিঙ্গারপ্রিন্ট, রক্তের নমুনা ও গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করেছে। ঘটনার কারণ নির্ণয় এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারে আশুলিয়া থানা পুলিশের পাশাপাশি ঢাকা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ (DB) যৌথভাবে তদন্ত অভিযান অব্যাহত রেখেছে। লাশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।



