ঢাকার শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার নলাম এলাকায় ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো (বিএটি) কোম্পানির দুটি তামাকের গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল থেকে শুরু হওয়া এই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট টানা কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়েও আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসায় ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শিল্প পুলিশের চারটি দল মোতায়েন করা হয়েছে এবং প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছেন।
স্থানীয় সূত্র ও ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল প্রায় সাড়ে ৭টার দিকে নলাম এলাকায় অবস্থিত ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানির দুটি গুদামে আগুনের সূত্রপাত হয়। গুদামে সংরক্ষিত তামাক ও অন্যান্য দাহ্য উপকরণ থাকায় অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন দ্রুত বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে। দূর থেকে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেলে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন।
খবর পাওয়ার পর প্রথমে জিরাবো ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে। পরে ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের আরও দুটি ইউনিট যোগ দেয়। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় পরবর্তীতে অতিরিক্ত একটি ইউনিট মোতায়েন করা হলে আগুন নেভানোর কাজে মোট সাতটি ইউনিট অংশ নেয়। আগুনের ব্যাপকতা এবং গুদামে থাকা দাহ্য উপকরণের কারণে নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জটিল হয়ে ওঠে। চার ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চেষ্টা চালিয়েও আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।
আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় আশপাশের বসতবাড়ির বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে অনেকেই দ্রুত নিজেদের প্রয়োজনীয় ও মূল্যবান মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। এলাকাজুড়ে মানুষের ভিড় নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য শিল্প পুলিশের চারটি দল দায়িত্ব পালন করছে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে গুদামে আগুন লাগার খবর পাওয়ার পরপরই নিকটস্থ স্টেশনগুলো থেকে ইউনিট পাঠানো হয়। তিনি বলেন, আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় এটি নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লাগছে এবং পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসার আগে এর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে মন্তব্য করা সম্ভব নয়। একইভাবে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণও এখনই নির্ধারণ করা যাচ্ছে না। আগুন সম্পূর্ণ নিভে গেলে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অগ্নিকাণ্ডের উৎস, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রম শুরু করবেন।
শিল্পাঞ্চলে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উৎপাদন কার্যক্রম, গুদামে সংরক্ষিত পণ্য এবং আশপাশের স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল।



