উপজেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় রাজনীতির গতিপ্রকৃতি নিয়ে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কার্যালয়গুলো এখন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) রাজনৈতিক চর্চার বিকল্প কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
সোমবার (১৭ আগস্ট) রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া একবার্তায় সারজিস আলম এই তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন উপজেলার প্রশাসনিক কেন্দ্রগুলো নিজেদের নিরপেক্ষতা হারিয়ে দলীয় ভাবধারায় পরিচালিত হচ্ছে।
নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া সেই সংক্ষিপ্ত কিন্তু তীক্ষ্ণ পোস্টে এনসিপি নেতা লিখেছেন, ‘ইউএনও অফিসগুলো হয়ে উঠছে বিএনপির ২য় অফিস। আর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সেক্রেটারি দায়িত্ব পালন করছেন ভারপ্রাপ্ত ইউএনও হিসেবে।’
সারজিস আলমের এই বক্তব্য প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। মাঠপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই এই পোস্টের নিচে সহমত পোষণ করে মন্তব্য করছেন, আবার কেউ কেউ এমন মন্তব্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। পোস্টটি প্রকাশের অল্প সময়ের মধ্যেই তা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পোস্টটিতে ৪৬ হাজারের বেশি ব্যবহারকারী তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, আর মন্তব্য ও শেয়ারের সংখ্যাও ছিল চোখে পড়ার মতো।
প্রশাসনিক পর্যায়ে দলীয় প্রভাবের এমন অভিযোগ বাংলাদেশে নতুন নয়। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হলো উপজেলা পরিষদ ও ইউএনও কার্যালয়। সাধারণ মানুষের সরকারি সেবা নিশ্চিত করা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি তদারকি এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে ইউএনওদের ভূমিকা অপরিসীম। কিন্তু দীর্ঘ দিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে যে, ক্ষমতার রদবদল বা রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের ক্ষমতার ভারসাম্যও বদলে যায়।
জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতার এই পোস্ট মূলত মাঠপর্যায়ের প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকারি দফতরগুলো যদি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ের মতো ব্যবহৃত হতে থাকে, তবে সাধারণ নাগরিকরা নিরপেক্ষ সেবা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবেন। সেই সাথে সিভিল প্রশাসনের ওপর জনগণের আস্থা সংকটে পড়তে পারে।
উল্লেখ্য, সারজিস আলম সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে আসছেন। তার এই বক্তব্যের পর রাজনৈতিক অঙ্গন এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা মহলে কেমন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়। তবে এ বিষয়ে এখনো সংশ্লিষ্ট কোনো উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা কিংবা বিএনপি নেতাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
https://www.facebook.com/sarjis.nirob/posts/4527839234164191?ref=embed_post

