খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ই আগস্ট ২০২৬, ১১:৪০ এএম
ইতালির রাজধানী রোমের কাসেলোত্তিতে নিজ বাসায় নৃশংসভাবে খুন হওয়া একই পরিবারের তিন বাংলাদেশি সদস্যের মরদেহ অবশেষে দেশে পৌঁছেছে। শুক্রবার সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাদের মরদেহ বহনকারী বিমানটি অবতরণ করে। বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় সকল আইনি প্রক্রিয়া ও স্বজনদের পরিচয় নিশ্চিতকরণ শেষে মরদেহগুলো তাদের নিজ গ্রাম নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে পাঠানো হয়।
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের শিকার হন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা কামাল উদ্দিন বাবুল (৩৯), তার ৩৮ বছর বয়সী স্ত্রী এবং তাদের মাত্র পাঁচ বছর বয়সী শিশুকন্যা আরোয়া ইসলাম আরিশা। ঘাতকের নির্মম আক্রমণ থেকে ভাগ্যক্রমে বেঁচে যায় তাদের একমাত্র ছেলে অয়ন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অয়ন কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অভিভাবকত্বে একই বিমানে দেশে ফিরেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, এর আগে বৃহস্পতিবার ইতালিতে প্রবাসী বাংলাদেশি ও সহকর্মীদের উপস্থিতিতে নিহতের প্রথম জানাজা সম্পন্ন হয়। জানাজা শেষে মরদেহগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে পাঠানোর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়। শুক্রবার বিকেল নাগাদ মরদেহবাহী ফ্রিজিং গাড়িটি নোয়াখালীতে তাদের গ্রামের বাড়িতে এসে পৌঁছালে সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। নিহতের আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা শত শত মানুষ কান্নায় ভেঙে পড়েন।
পরে একই দিন সন্ধ্যায় স্থানীয় শিশু নিকেতন হাইস্কুল মাঠে নিহতের স্মরণে ও আত্মার মাগফিরাত কামনায় দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে স্বজনদের চোখের জলে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত ২৬ জুন রাতে রোমের ক্যাসালোত্তি এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্টে এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছিল। প্রতিবেশীরা খবর দিলে ইতালীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অ্যাপার্টমেন্ট থেকে তিনজনের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে। একই সঙ্গে সেখান থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় অয়নকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।
হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ সম্পর্কে নিহতের স্বজনেরা জানান, দেশীয় বিরোধের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। নিহত কামাল উদ্দিন বাবুল ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নোয়াখালীতে নিজ বাড়িতে থাকাকালীন ‘লাল বাহিনী’ নামের একটি স্থানীয় প্রভাবশালী সন্ত্রাসী চক্রের কাছ থেকে হুমকির চিঠি পেয়েছিলেন। ঐ চিঠিতে তাকে ও তার পরিবারকে প্রাণনাশের ভয় দেখানো হয়েছিল। নিরাপত্তা চেয়ে তখন কোম্পানীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগও করা হয়েছিল। ইতালিতে গিয়েও এমন নির্মম পরিণতি ভোগ করতে হবে, তা ভাবতেও পারেননি স্বজনরা। স্থানীয় প্রশাসন ও স্বজনদের দাবি, ইতালীয় পুলিশ ও বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করে দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হোক।
মন্তব্য