রাজবাড়ীর পাংশায় ৩০টি ইয়াবা বড়িসহ কালুখালী উপজেলার মাজবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের দুই সংরক্ষিত নারী সদস্যকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজবাড়ী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মফিজুল ইসলাম।
গ্রেফতার দুই নারী হলেন কালুখালী উপজেলার মোহনপুর এলাকার আব্দুল মান্নান মন্ডলের স্ত্রী হামিদা খাতুন (৪৭) এবং চর কুলটিয়া এলাকার কদর আলী মন্ডলের স্ত্রী সাজেদা বেগম (৪০)। হামিদা খাতুন মাজবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য। অন্যদিকে সাজেদা বেগম একই ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মফিজুল ইসলাম জানান, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক শিমুল শেখের নেতৃত্বে একটি দল মঙ্গলবার বিকেলে পাংশা মডেল থানা এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের একপর্যায়ে পাংশা পৌরসভার কলেজ রোডে একটি আসবাবপত্রের দোকানের সামনে পাকা সড়ক থেকে দুই নারীকে আটক করা হয়। পরে তাদের কাছ থেকে ৩০টি ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আটক দুই নারী মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।
অভিযানের পর উদ্ধার করা ইয়াবা জব্দ করা হয় এবং গ্রেফতার দুই নারীর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা মামলার পরবর্তী কার্যক্রমের মাধ্যমে বিষয়টি এগিয়ে নেওয়া হবে।
এদিকে, দুই নারী জনপ্রতিনিধি ইয়াবাসহ গ্রেফতার হওয়ার ঘটনায় স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। মাজবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী শরিফুল ইসলাম জানান, তার পরিষদের দুই নারী সদস্যকে ইয়াবাসহ গ্রেফতারের বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কিছু জানানো হয়নি।
জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে মাদক-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠায় স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে অভিযোগের সত্যতা এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়ায় যাচাই হবে। গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পুলিশের পরবর্তী তদন্ত ও আদালতের কার্যক্রমেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত অবস্থান নির্ধারিত হবে।


