খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ই আগস্ট ২০২৬, ৯:৫৬ পিএম
ইরাকের আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি অঞ্চলের এরবিল এলাকার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত বিরোধী রাজনৈতিক দল কমালা পার্টির সদর দফতর লক্ষ্য করে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী। মঙ্গলবার বিকেলে দুলে আলান এলাকায় অবস্থিত সংগঠনটির মূল কার্যালয়ে এই আঘাত হানা হয়। কমালা পার্টির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যায়নি।
কমালা পার্টির কেন্দ্রীয় মুখপাত্র আমজাদ পানাহি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জানান, বিকেলের দিকে ইরানের ছুঁড়ে দেওয়া একটি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র তাঁদের প্রধান কার্যালয়ে সরাসরি আঘাত হানে। তবে আগে থেকেই বাড়তি সতর্কতা ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করায় দলের শীর্ষ নেতা ও সদস্যরা কোনো বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন। কমালা মূলত একটি বামপন্থী কুর্দি রাজনৈতিক গোষ্ঠী, যারা দীর্ঘদিন ধরে ইরানে বসবাসকারী সংখ্যালঘু কুর্দি জনগোষ্ঠীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক অধিকার রক্ষায় সোচ্চার।
তেহরান সরকার বহু বছর ধরে কুর্দিশ টোয়েলার্স পার্টি বা কমালাসহ অন্যান্য কুর্দি সশস্ত্র ও রাজনৈতিক দলগুলোকে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি বলে গণ্য করে আসছে। ইরানের অভিযোগ, সীমান্ত সংলগ্ন ইরাকি ভূখণ্ডে অবস্থান নিয়ে এসব সশস্ত্র দল ইরানের ভেতরে নাশকতা ও সহিংসতা চালিয়ে আসছে। অন্যদিকে কুর্দি সংগঠনগুলোর দাবি, তারা কেবল স্বাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকারের পক্ষে আন্দোলন করছে।
পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে কমালা পার্টির মুখপাত্র আরও জানান যে, সম্প্রতি ইরান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বাড়ার পর থেকেই তাঁদের ক্যাম্পগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। তেহরানি বাহিনী এখন পর্যন্ত তাঁদের বিভিন্ন ঘাঁটি ও কার্যালয়ে ১০২টিরও বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রয়োগ করেছে। মাত্র দুই সপ্তাহ আগেও আলানা উপত্যকায় কমালা পার্টির অপর একটি ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় অন্তত ছয়জন সদস্য গুরুতর আহত হন।
ইরাকের সার্বভৌম ভূখণ্ডে ইরানের এমন ঘন ঘন আকাশপথে আক্রমণ মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বেশ স্পর্শকাতর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। বাগদাদের কেন্দ্রীয় সরকার এবং কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকার উভয়ের জন্যই বিষয়টি চরম অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা সীমান্ত এলাকায় বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
মন্তব্য