খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ই আগস্ট ২০২৬, ১০:১২ পিএম
সারাদেশে ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৭৫৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে এই সময়ে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। নতুন আক্রান্তদের নিয়ে চলতি বছরে এ পর্যন্ত মোট হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৮২৭ জনে। আর এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন মোট ৬১ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দেওয়া নিয়মিত স্বাস্থ্য সংবাদ বুলেটিনে দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতির এই সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য জানানো হয়েছে।
বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের বড় একটি অংশই ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ও আশপাশের এলাকার। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন বিভিন্ন হাসপাতালে ১১০ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ১০৬ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। সিটি করপোরেশন সীমানার বাইরে ঢাকা বিভাগের অন্যান্য জেলার হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নিতে ভর্তি হয়েছেন আরও ১৫৮ জন।
রাজধানীর বাইরেও দেশের বিভিন্ন বিভাগে ডেঙ্গুর প্রকোপ ছড়াচ্ছে। গত একদিনে বরিশাল বিভাগের হাসপাতালগুলোতে ৮০ জন এবং চট্টগ্রাম বিভাগের হাসপাতালগুলোতে ৮৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। খুলনা বিভাগে ভর্তি হয়েছেন ১০১ জন রোগী। এছাড়া রাজশাহী বিভাগে ৬৩ জন, ময়মনসিংহে ২৭ জন, রংপুর বিভাগে ১৭ জন এবং সিলেট বিভাগে ভর্তি হয়েছেন ৫ জন রোগী। ঢাকার পাশাপাশি মফস্বল এলাকাগুলোতেও মশার কামড়ে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বাংলাদেশে ২০০০ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর হিসাব রাখা শুরু হয়। হিসেব অনুযায়ী, দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছিল ২০২৩ সালে। ওই বছরজুড়ে রেকর্ড ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন রোগী ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে বাধ্য হন এবং দেশে এ যাবতকালের সর্বোচ্চ ১ হাজার ৭০৫ জনের প্রাণহানি ঘটে।
পরের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালেও ডেঙ্গুর প্রভাব পুরোপুরি থামেনি। ওই বছরও চার শতাধিক মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয় এই মশাবাহিত জ্বর। পাশাপাশি ডেঙ্গু শনাক্ত রোগীর সংখ্যা এক লাখ দুই হাজারের ঘর ছাড়িয়ে যায়। বর্ষা মৌসুমের এই সময়ে ডেঙ্গুর সংক্রমণ রোধে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা ও সচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
মন্তব্য