খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
ইরান যদি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে গুপ্তহত্যার চেষ্টা করে, তাহলে দেশটির বিরুদ্ধে নজিরবিহীন সামরিক হামলা চালানো হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে ইরানের দিকে প্রথমে এক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হবে এবং এরপর আরও হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হবে। শনিবার (১১ জুলাই) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ট্রাম্প লিখেছেন, ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের দিকে তাক করে এক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দেওয়া হুমকির বাস্তবায়ন হিসেবে যদি ইরান যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্টকে অর্থাৎ তাঁকে গুপ্তহত্যা করে বা এমন কোনো চেষ্টা চালায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র সঙ্গে সঙ্গে ব্যাপক সামরিক জবাব দেবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও জানান, এ বিষয়ে তিনি ইতোমধ্যে দেশটির সামরিক বাহিনীকে এক বছরের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় সেই সময়সীমা আরও বাড়ানো হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, প্রয়োজন হলে ইরানের যেকোনো অংশে ব্যাপক ধ্বংসাত্মক হামলা চালানোর সক্ষমতা, প্রস্তুতি ও ইচ্ছা—সবই মার্কিন বাহিনীর রয়েছে।
ট্রাম্পের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই নানা ইস্যুতে উত্তেজনাপূর্ণ। পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং সামরিক উপস্থিতিকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে বহু বছর ধরে বিরোধ চলে আসছে। সাম্প্রতিক সময়েও উভয় পক্ষের বক্তব্যে সেই উত্তেজনার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।
অন্যদিকে ট্রাম্পের হুমকির প্রেক্ষাপটে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও দেশটির প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি বলেন, ইরান কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আত্মসমর্পণ করবে না এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রস্তুত থাকবে।
গালিবাফের ভাষায়, ইরান কখনোই দেশের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি বন্ধ করেনি। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো সময় আলোচনার পথ থেকে সরে যেতে পারে বা সমঝোতা ভঙ্গ করতে পারে। সে কারণেই সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সবসময় প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের অবসান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও ইরানের আত্মসমর্পণের মাধ্যমে এই সংকটের সমাধান হবে—এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়। তাঁর মতে, জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তার প্রশ্নে ইরান আপস করবে না।
ট্রাম্প ও গালিবাফের সাম্প্রতিক বক্তব্য আবারও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা এখনো অব্যাহত রয়েছে। উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকার বার্তা দিয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।