খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৬:২৯ পিএম
ইরানে নারীরা আনুষ্ঠানিকভাবে মোটরসাইকেল চালানোর লাইসেন্স পেতে পারবেন, দেশটির সংবাদমাধ্যম বুধবার এই খবর নিশ্চিত করেছে। নতুন বিধির ফলে দীর্ঘদিন ধরে মোটরসাইকেল ও স্কুটার সংক্রান্ত আইনের অস্পষ্টতা দূর হলো।
আগে আইনে স্পষ্টভাবে নারীদের দুই চাকার যানবাহন চালানো নিষিদ্ধ ছিল না। তবে বাস্তবে, নারী নাগরিকদের মোটরসাইকেল লাইসেন্স দেওয়া হতো না। এর ফলে দুর্ঘটনার শিকার হলেও আইনিভাবে নারীরাই দায়ী হতেন। এই অনিশ্চয়তার অবসান ঘটাতে ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ গত মঙ্গলবার একটি রেজল্যুশনে স্বাক্ষর করেছেন। রেজল্যুশন অনুযায়ী, ট্রাফিক আইনের প্রাসঙ্গিক নিয়মাবলী আরও স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।
ইলনা বার্তা সংস্থা জানায়, জানুয়ারির শেষ দিকে মন্ত্রিসভা এই রেজল্যুশন অনুমোদন দিয়েছে। নতুন বিধি অনুযায়ী, ট্রাফিক পুলিশকে বাধ্যতামূলকভাবে নারীদের জন্য ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ আয়োজন, পুলিশের তত্ত্বাবধানে পরীক্ষা নেওয়া এবং মোটরসাইকেল লাইসেন্স প্রদান করতে হবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের সাম্প্রতিক আন্দোলনের প্রেক্ষাপট এই পরিবর্তনের পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রেখেছে। অর্থনৈতিক সংকট থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন পরবর্তীতে সরকারবিরোধী রূপ নেয়। সরকার স্বীকার করেছে যে আন্দোলনের সময় তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যদিও দাবি করা হচ্ছে নিহতের বেশির ভাগই নিরাপত্তা বাহিনী ও পথচারী।
৩৩ বছর বয়সী অ্যাডভার্টাইজিং এজেন্সির কর্মী সাইনা জানান, গত ছয় মাস ধরে তিনি স্কুটারে অফিস যাতায়াত করছেন। তিনি বলেন, “এই পরিবর্তন অনেক দেরিতে এসেছে। নারীরা ইতিমধ্যে কয়েক মাস ধরে মোটরসাইকেল চালাচ্ছেন।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “আমার মনে হয় না এটি আমাদের সমাজের মূল সমস্যা।”
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ইরানে নারীদের পোশাকসংক্রান্ত নানা নিয়ম চালু আছে। জনসমক্ষে নারীদের মাথা ঢাকতে স্কার্ফ ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক এবং সাদাসিধে, ঢিলে পোশাক পরা দরকার। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই নিয়মের প্রতি চ্যালেঞ্জ বেড়েছে এবং নারী নাগরিকদের মধ্যে মোটরসাইকেল চালানোর আগ্রহও বৃদ্ধি পেয়েছে।
নিচের টেবিলে নতুন বিধি ও নারীদের মোটরসাইকেল লাইসেন্স সংক্রান্ত মূল দিকগুলো সংক্ষেপে দেখানো হলো:
| বিষয় | বর্ণনা |
|---|---|
| অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ | ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট ও মন্ত্রিসভা |
| রেজল্যুশন প্রকাশ | জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ, ২০২৬ |
| ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব | ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ, পরীক্ষার তত্ত্বাবধান, লাইসেন্স প্রদান |
| প্রভাবিত জনগণ | নারী মোটরসাইকেল চালকরা |
| সামাজিক প্রেক্ষাপট | সাম্প্রতিক আন্দোলন ও পোশাক-সংক্রান্ত নিয়ম |
| লাইসেন্স কার্যকর | আনুষ্ঠানিকভাবে বর্তমানে শুরু |
নতুন বিধির ফলে ইরানের নারীরা নিরাপদ ও আইনসম্মতভাবে মোটরসাইকেল চালানোর অধিকার পেলেও সামাজিক ও সংস্কৃতিক বাধা এখনও রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি নারীর স্বাধীনতা ও চলাচলের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
মন্তব্য