খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান জেনারেল ব্র্যাড কুপার ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের একটি নতুন এবং বিস্তৃত রূপরেখা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বিশেষ বৈঠকে বসছেন। বৃহস্পতিবার এই ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। মূলত ইরানের পরমাণু কর্মসূচির বিস্তার রোধ এবং মধ্যপ্রাচ্যে কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এই নতুন ছক তৈরি করা হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেন্টকম ইরানের ওপর একটি ‘সংক্ষিপ্ত অথচ শক্তিশালী’ হামলার নীল নকশা তৈরি করেছে। এই পরিকল্পনার প্রাথমিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অবকাঠামোকে নির্ধারণ করা হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে না জড়িয়ে ইরানকে আলোচনার টেবিলে নমনীয় অবস্থানে নিয়ে আসাই এই কৌশলের মূল উদ্দেশ্য। বিশেষ করে তেহরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করাকে এই অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত এই পরিকল্পনায় শুধুমাত্র আকাশপথের হামলার ওপর সীমাবদ্ধ না থেকে জল ও স্থলপথের কিছু বিশেষ অভিযানের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো হলো:
হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ: বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি। এর একটি নির্দিষ্ট অংশ মার্কিন নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে যাতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত না হয়।
স্থলবাহিনী মোতায়েন: প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে এবং কৌশলগত অবস্থান ধরে রাখতে সীমিত পরিসরে মার্কিন স্থলবাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন হতে পারে।
বিশেষ বাহিনীর অভিযান: ইরানের কাছে মজুদ থাকা উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জব্দ বা ধ্বংস করার জন্য মার্কিন বিশেষ কমান্ডো বাহিনীকে কাজে লাগানোর একটি প্রস্তাবনাও এই ব্রিফিংয়ে আলোচনার টেবিলে থাকতে পারে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বুধবার এক সাক্ষাৎকারে ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি বোমাবর্ষণের তুলনায় নৌ-অবরোধকে অধিক কার্যকর কৌশল হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার মতে, অর্থনৈতিক ও সরবরাহ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করে ইরানকে চাপে ফেলা সামরিক হামলার চেয়েও টেকসই ফলাফল দিতে পারে। তবে সেন্টকম প্রধানের এই ব্রিফিং ইঙ্গিত দেয় যে, ট্রাম্প প্রশাসন আলোচনার অচলাবস্থা ভাঙতে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের বিকল্প পথটিও অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
| বিষয়ের ক্ষেত্র | প্রস্তাবিত পদক্ষেপের প্রকৃতি | সম্ভাব্য লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য |
| আক্রমণের ধরন | সংক্ষিপ্ত ও শক্তিশালী সামরিক আঘাত | অবকাঠামো ধ্বংস ও তেহরানকে চাপে ফেলা |
| পরমাণু ইস্যু | সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জব্দ বা নিয়ন্ত্রণ | পরমাণু অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা হ্রাস করা |
| নৌ-পথ নিয়ন্ত্রণ | হরমুজ প্রণালির নির্দিষ্ট অংশে আধিপত্য | আন্তর্জাতিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ |
| স্থল অভিযান | সীমিত পরিসরে স্থলবাহিনী মোতায়েন | কৌশলগত পয়েন্ট রক্ষা ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা |
| বিকল্প কৌশল | কঠোর নৌ-অবরোধ (Blockade) | অর্থনৈতিক ও সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি |
ইরানের সঙ্গে পশ্চিমা বিশ্বের পরমাণু চুক্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন বিদ্যমান। বর্তমান মার্কিন প্রশাসন মনে করছে, তেহরান ক্রমাগত তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা বাড়িয়ে চলেছে, যা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি। এই প্রেক্ষাপটে সেন্টকমের নতুন এই ‘ছক’ শান্তি আলোচনার টেবিলে ইরানকে নমনীয় হতে বাধ্য করার একটি শক্তিশালী মাধ্যম হতে পারে। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নৌ-অবরোধের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন, তবুও সামরিক প্রস্তুতির এই ব্রিফিং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। মার্কিন নীতিনির্ধারকদের এই কঠোর অবস্থান তেহরানের পরমাণু নীতি ও আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে।