খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক: ইসরায়েল-হামাসের যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) হামাস ছয়জন ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দিলেও বিনিময়ে ৬২০ জন ফিলিস্তিনি বন্দিকে গাজায় পাঠায়নি ইসরায়েল। ইসরায়েলের এমন কর্মকাণ্ডকে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। এই ঘটনাকে মূলত বিশ্বাসের ওপর আঘাত বলেও মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো ইউনিভার্সিটির মিডল ইস্টার্ন স্টাডিজের পরিচালক স্টিফেন জুনেস।
স্টিফেন জুনেস আল–জাজিরাকে বলেন, ‘নেতানিয়াহুর এমন সিদ্ধান্ত খুবই বিরক্তিকর। এটা যুদ্ধবিরতি চুক্তির স্পষ্টত লঙ্ঘন। এটি মূলত মানুষের বিশ্বাসের ওপর আঘাত।’
তিনি আরো বলেন, চুক্তির শর্ত মেনে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে মানবিক সহায়তা সরবরাহ, তাঁবু, ভ্রাম্যমাণ ঘর, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অন্যান্য সহায়তা পৌঁছে দিতে অনুমতি দেওয়ার কথা ছিল। তাতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছে ইসরায়েল।
জুনেস বলেন, ‘বিরক্তিকর বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্র কখনোই যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত পূরণে ইসরায়েলকে চাপ দেবে না। যুক্তরাষ্ট্রের কোনো চাপ ছাড়া ইসরায়েলেরও চুক্তিটি শেষ করার জন্য খুব বেশি উৎসাহ নেই।’
আস্থা ও বিশ্বাসের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘যুদ্ধবিরতির প্রথম পর্যায় ৪২ দিনের। এই সময়ে মোট ৩৩ ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেবে হামাস। বিনিময়ে ইসরায়েলি কারাগার থেকে ১ হাজার ৯০০ ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেওয়ার কথা রয়েছে। যদি যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম পর্যায়টি ইসরায়েল পূরণ না করে, তাহলে তাঁরা (ফিলিস্তিনিরা) কীভাবে জানবে যে ইসরায়েলিরা চুক্তির পরবর্তী পর্যায়ের প্রতিশ্রুতি পূরণ করবে?’
এ বিষয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, সর্বশেষ মুক্তি পাওয়া জিম্মিদের ‘অপমানজনক অনুষ্ঠানের’ মাধ্যমে ইসরায়েলের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তাই আপাতত ফিলিস্তিনি বন্দীদের মুক্তি দেওয়া হবে না।
প্রতিক্রিয়ায় হামাসের রাজনৈতিক শাখার জ্যেষ্ঠ সদস্য বাসেম নাঈম বলেন, গাজায় চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তি নস্যাৎ করতে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ‘নোংরা খেলা’ খেলছেন।
খবরওয়ালা/টিএ



