ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নগরবাসীর নিরাপত্তা ও মূল্যবান সম্পদ সংরক্ষণের বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার বা গুরুত্বপূর্ণ দলিল অরক্ষিত অবস্থায় বাসায় না রেখে আত্মীয়স্বজনের কাছে রাখাই উত্তম। যাদের ঢাকায় আত্মীয় নেই, তাদের প্রয়োজন হলে এসব থানা বা পুলিশের তত্ত্বাবধানে রাখা যেতে পারে।
রোববার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঢাকা ছেড়ে ঘরমুখী মানুষের যাত্রা ও ফাঁকা রাজধানীর নিরাপত্তা পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “নগরবাসীর নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে এবং ফাঁকা ঢাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইতিমধ্যেই সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।”
ডিএমপির নির্দেশনা অনুযায়ী বাসা ছাড়ার আগে নাগরিকদের নিম্নলিখিত বিষয়গুলো মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে:
-
দরজা–জানালা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ আছে কি না তা পরীক্ষা করা।
-
বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ বন্ধ বা নিরাপদ করা।
-
সিসিটিভি ক্যামেরা সচল রাখা এবং বাসার আশপাশে পর্যাপ্ত আলো নিশ্চিত করা।
ডিএমপি ঈদে ফাঁকা রাজধানীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। নিম্নলিখিত চেকপোস্ট ও প্যাট্রোল কার্যক্রম চালু থাকবে:
| নিরাপত্তা ব্যবস্থা | সংখ্যা / বিবরণ |
|---|---|
| মোবাইল প্যাট্রোল | প্রতিদিন ৩০০+ মোটরসাইকেল ও গাড়ি ব্যবহার |
| রাতের চেকপোস্ট | ৭০টির বেশি চেকপোস্ট বসানো |
| বিশেষ নজরদারি | আবাসিক, বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক এলাকায় |
| টার্মিনাল ও স্টেশন নিরাপত্তা | ৪টি বাস টার্মিনাল, ১টি লঞ্চ টার্মিনাল, রেলস্টেশন |
| বিপণিবিতান মোতায়েন | সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ১০০০ পুলিশ সদস্য |
এছাড়া, রাজধানীর প্রধান সড়ক ও মহাসড়কে নিরাপত্তা ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। এতে রেসিং, অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো এবং যানজটজনিত সমস্যার প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
মো. সরওয়ার আরও জানিয়েছেন, ঈদ উপলক্ষে ছিনতাই, পকেটমারি ও অজ্ঞান পার্টি ঠেকাতে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। বাসা ও ব্যবসায়িক স্থানের নিরাপত্তার পাশাপাশি, যাত্রী হয়রানি ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধে ইউনিফর্ম ও গোয়েন্দা পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে।
ডিএমপির এই প্রস্তুতি নাগরিকদের ছুটির সময়ে নিরাপদ যাত্রা এবং ফাঁকা শহরে সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।



