উখিয়ার ক্যাম্পে আগুন, আতঙ্কে রোহিঙ্গারা

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার একটি রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুনে একটি লার্নিং সেন্টারসহ একাধিক অস্থায়ী স্থাপনা সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের জন্য কিছুটা স্বস্তির বিষয়। সোমবার (২০ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক তিনটার দিকে উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের শফিউল্লাহ কাটা এলাকার ১৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়।

স্থানীয় সূত্র ও ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, গভীর রাতে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হলে তা খুব দ্রুত আশপাশের ঝুপড়ি ও অস্থায়ী স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়ে। অধিকাংশ ঘর বাঁশ, ত্রিপল ও দাহ্য উপকরণ দিয়ে নির্মিত হওয়ায় আগুন দ্রুত বিস্তার লাভ করে। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে ক্যাম্পের বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে নিরাপদ স্থানে সরে যান এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা আগুন নেভাতে প্রাথমিকভাবে চেষ্টা শুরু করেন।

খবর পেয়ে উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও যৌথভাবে আগুন নেভাতে অংশ নেন। তবে একপর্যায়ে আগুন পুনরায় ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছুটা বেগ পেতে হয়। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয় এবং সর্বোচ্চ সক্ষমতা দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালানো হয়। তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলমান রয়েছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে অগ্নিকাণ্ড নতুন কোনো ঘটনা নয়। এর আগে গত ২৬ ডিসেম্বর সকালে ৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডে একটি হাসপাতাল পুড়ে যায়। একইভাবে ২৫ ডিসেম্বর রাতে কুতুপালং নিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুন লেগে অন্তত দশটির বেশি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘনবসতিপূর্ণ এসব ক্যাম্পে অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা সীমিত হওয়ায় প্রায়ই এমন দুর্ঘটনা ঘটছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিচে সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডগুলোর সংক্ষিপ্ত তথ্য তুলে ধরা হলো—

তারিখ ক্যাম্প নম্বর ও এলাকা ক্ষয়ক্ষতি
২০ জানুয়ারি ১৬ নম্বর ক্যাম্প, উখিয়া লার্নিং সেন্টারসহ একাধিক স্থাপনা
২৬ ডিসেম্বর ৪ নম্বর ক্যাম্প, উখিয়া একটি হাসপাতাল
২৫ ডিসেম্বর কুতুপালং নিবন্ধিত ক্যাম্প ১০টির বেশি ঘর

সংশ্লিষ্টদের মতে, অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি কমাতে ক্যাম্পে অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম বৃদ্ধি, সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ এবং ঘর নির্মাণে অপেক্ষাকৃত নিরাপদ উপকরণ ব্যবহারের উদ্যোগ জরুরি। তা না হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থেকেই যাবে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।