রাজধানীর উত্তরায় দ্রুতগতির কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে দুই আরোহী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল সোয়া ১০টার দিকে উত্তরার জসীমউদ্দীন রোড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তিরা হলেন আরিফুর রহমান (৪০) ও ফালু মিয়া (৫৫)।
দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে ফালু মিয়া ঘটনাস্থলেই মারা যান। অন্যদিকে আরিফুর রহমানকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ১২টার দিকে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত আরিফুর রহমান পোস্তগোলা এলাকার পুরোনো লোহা কেনাবেচার একটি দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। তাঁর চাচাতো ভাই মনির তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সকালে আরিফুর রহমান ও তাঁর সঙ্গে থাকা ফালু মিয়া মোটরসাইকেলে করে উত্তরার জসীমউদ্দীন রোড এলাকা দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় দ্রুতগতির একটি কাভার্ডভ্যান তাঁদের মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়।
ধাক্কার তীব্রতায় মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে সড়কে পড়ে গুরুতর আহত হন দুজনই। দুর্ঘটনার পর তাঁদের উদ্ধারের চেষ্টা করা হয়। তবে ফালু মিয়াকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। আরিফুর রহমানকে দ্রুত স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। পরে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে মরদেহ
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক হাবিবুর রহমান চিকিৎসকের বরাত দিয়ে দুই ব্যক্তির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, উত্তরার জসীমউদ্দীন রোড এলাকায় কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী গুরুতর আহত হন। তাঁদের মধ্যে একজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে অন্যজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকেও মৃত ঘোষণা করেন।
হাবিবুর রহমান আরও জানান, নিহত দুজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হয়েছে।
কাভার্ডভ্যান ও চালক পুলিশের হেফাজতে
হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের এই কর্মকর্তা জানান, দুর্ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট কাভার্ডভ্যান ও এর চালককে বিমানবন্দর থানা-পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে।
সড়ক দুর্ঘটনায় একই মোটরসাইকেলের দুই আরোহীর প্রাণহানির ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিশেষ করে কর্মস্থলে যাতায়াতের পথে এমন দুর্ঘটনা সড়কে মোটরসাইকেল চালকদের নিরাপত্তা নিয়ে আবারও উদ্বেগ তৈরি করেছে।
রাজধানীর ব্যস্ত সড়কগুলোতে ভারী যানবাহন ও মোটরসাইকেলের চলাচল প্রায়ই একই জায়গায় সীমাবদ্ধ থাকে। এ অবস্থায় যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলা দুর্ঘটনা প্রতিরোধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কাভার্ডভ্যান ও অন্যান্য ভারী যানবাহনের চালকদের সতর্কতা এবং দায়িত্বশীল চালনা পথচারী ও ছোট যানবাহনের আরোহীদের নিরাপত্তার জন্য জরুরি।
তবে উত্তরার এই দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং দায়দায়িত্ব তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। নিহতদের পরিবারের সদস্যরা এখন স্বজন হারানোর শোকের পাশাপাশি পরবর্তী আইনি ও দাফনসংক্রান্ত কার্যক্রম নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন।


