পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বেতন বৃদ্ধি এবং অন্যান্য দাবিতে এক থেকে দেড় হাজার পোশাকশ্রমিক উত্তরার ৪ নম্বর সেক্টরের ১৩ নম্বর সড়ক দিয়ে বের হয়ে মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করে। তবে পুলিশের দাবি, শ্রমিকেরা তাদের কথায় সাড়া দেননি। একপর্যায়ে পুলিশের বাধার মুখে শ্রমিকেরা পিছু হটলেও পরে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার মো. রেজাউল করিম জানান, শ্রমিকেরা লাঠিসোঁটা নিয়ে সড়কে অবস্থান নিলে পুলিশ প্রথমে তাঁদের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করে। কিন্তু তাঁরা কথা না শোনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে। তাঁদের ওপর লাঠিচার্জ করা হয়নি; কেবল ধাওয়া দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও জানান, শ্রমিকদের হামলায় পুলিশের দুই কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। তাঁদের একজনের হাত ভেঙে গেছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ছাড়া পুলিশের একটি পিকআপ ও একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে।
ঘটনার পর ওই এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার কথা জানিয়েছে পুলিশ। উপকমিশনারের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পুরো এলাকা পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
বেতন বৃদ্ধি ও অন্যান্য দাবি ঘিরে পোশাকশ্রমিকদের এ কর্মসূচিতে উত্তরা এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ফলে যান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়। তবে ঘটনার কারণে যান চলাচল কতটা ব্যাহত হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
পোশাকশ্রমিকদের সুনির্দিষ্ট দাবিগুলো কী ছিল, তাঁদের পক্ষ থেকে কেউ আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন কি না এবং সংঘর্ষে শ্রমিকদের কেউ আহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যও জানা যায়নি। পুলিশের পক্ষ থেকে আহত সদস্যদের অবস্থা সম্পর্কেও বিস্তারিত জানানো হয়নি।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত। এ খাতের শ্রমিকদের বেতন, কর্মপরিবেশ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। শ্রমিকদের দাবি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবস্থানের মধ্যে সমন্বয় না হলে এমন পরিস্থিতিতে শ্রমিক অসন্তোষ আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
তবে উত্তরার শনিবারের ঘটনার ক্ষেত্রে শ্রমিকদের দাবির বিস্তারিত বিবরণ এবং তাঁদের বক্তব্য পাওয়া না যাওয়ায় আন্দোলনের পেছনের পরিস্থিতি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যায়নি।


