রাজধানীর উত্তরার আজমপুর এলাকায় বেতন বৃদ্ধির দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন বিভিন্ন পোশাক কারখানার শত শত শ্রমিক। সোমবার (১২ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে তাঁরা সড়কে জড়ো হয়ে এ কর্মসূচি শুরু করেন। এতে সড়কের এক পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং আশপাশের এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী, কর্মজীবী মানুষ ও পথচারীরা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণখান এলাকার বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আজমপুর এলাকায় জড়ো হন। একপর্যায়ে তাঁরা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। শ্রমিকদের অবস্থানের কারণে সড়কের এক পাশ দিয়ে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়। ব্যস্ত এই এলাকায় যান চলাচল সীমিত হয়ে পড়ায় আশপাশের সড়কেও এর প্রভাব পড়ে।
সড়কে যানবাহনের চাপ বাড়লে কর্মস্থলগামী মানুষ ও গণপরিবহনের যাত্রীদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সড়কে আংশিক অবরোধের কারণে যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করে এবং যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে। তবে এ ঘটনায় কতক্ষণ যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে কিংবা যানজট কত দূর পর্যন্ত ছড়িয়েছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
দক্ষিণখানের অতিরিক্ত উপকমিশনার কে এইচ এম এরশাদ শ্রমিকদের সড়ক অবরোধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দক্ষিণখানের বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বেলা ১১টার দিকে সড়কে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
তবে শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবির সুনির্দিষ্ট কারণ, তাঁরা কত টাকা বেতন বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন কিংবা কোন কোন কারখানার শ্রমিক এ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি। সংশ্লিষ্ট কারখানা কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। শ্রমিকদের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, তা-ও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প দেশের অর্থনীতি ও রপ্তানি আয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত। এ শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের বেতন, কর্মপরিবেশ ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে বিভিন্ন সময়ে দাবি-দাওয়া সামনে আসে। বেতন বৃদ্ধির মতো বিষয় নিয়ে শ্রমিকদের অসন্তোষ তৈরি হলে তার প্রভাব কারখানার কার্যক্রমের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকার সড়ক যোগাযোগেও পড়তে পারে।
আজমপুর ও আশপাশের এলাকায় শ্রমিক, কর্মজীবী মানুষ এবং সাধারণ যাত্রীদের নিয়মিত যাতায়াত থাকায় সড়ক অবরোধের কারণে জনদুর্ভোগের আশঙ্কা তৈরি হয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনা এবং দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা সহজ হতে পারে।
এদিকে, শ্রমিকদের দাবি পূরণে কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেবে এবং বিক্ষোভকারীরা কখন সড়ক থেকে সরে দাঁড়াবেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ মোতায়েনের কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।


