সারাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) হামের উপসর্গ নিয়ে চারজন এবং নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে হাম ও এর উপসর্গে মোট ৮৮৫ জনের প্রাণহানি ঘটল। এর মধ্যে চিকিৎসা চলাকালীন হামের উপসর্গে ৭৮৬ জন এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হয়ে ৯৯ জন মারা গেছেন।
বুধবার (১২ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে নতুন করে হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৪১ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। ফলে ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত মোট উপসর্গযুক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৯ হাজার ১২৫ জনে। একই ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে আরও ৮৪ জনের দেহে নিশ্চিত হামের সংক্রমণ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে শুরু থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত মোট নিশ্চিত হাম আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৪৬৯ জনে।
অধিদপ্তরের তথ্যমতে, আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তির হারও বেশ বেড়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন মোট ১ লাখ ২১ হাজার ১৩ জন রোগী। এদের মধ্যে হাসপাতাল থেকে সঠিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা লাভ করে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ১৬ হাজার ৮২৭ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিশ্লেষকেরা বলছেন, হাম একটি অতিসংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা প্রধানত হাঁচি-কাশির মাধ্যমে বাতাসের সাহায্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে তীব্র জ্বর, শরীরে লালচে ফুসকুড়ি বা র্যাশ, কাশি, সর্দি এবং চোখ লাল হওয়া অন্যতম। সময়মতো টিকা না নেওয়া বা অপুষ্টিতে ভোগা শিশুরা এই রোগে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। উপসর্গ দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পাশাপাশি শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করার তাগিদ দিচ্ছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
মন্তব্য