সাভারের একটি ফাঁকা মাঠে উদ্ধার হওয়া শক্তিশালী প্রেসার কুকার বোমাটি সফলভাবে নিষ্ক্রিয় করেছে পুলিশের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট। বুধবার (১২ আগস্ট) বেলা সাড়ে তিনটার দিকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বিষেশজ্ঞ দলের উপস্থিতিতে নিয়ন্ত্রিত উপায়ে বোমাটির নিরাপদ বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। বিস্ফোরণের সময় বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো আশপাশ এলাকা।
এর আগে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) মধ্যরাতে সাভারের ভবানীপুর পুলিশ ক্যাম্পের অধীনস্থ সাধাপুর গোপের বাড়ি লালটেক ঘোড়া মসজিদের পাশের নির্জন মাঠে একটি নীল রঙের সন্দেহজনক প্লাস্টিকের ড্রাম দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতে অজ্ঞাত পরিচয় তিনজন ব্যক্তি ড্রামটি মাঠের মধ্যে ফেলে দ্রুত সটে পড়ে।
পরদিন বুধবার সকালে স্থানীয়রা কৌতূহলবশত ড্রামের মুখ খুলে ভেতরের জিনিসপত্র দেখতে যান। ড্রামের ভেতর কয়েকটি জামাকাপড়, একটি পবিত্র কোরআন শরিফ এবং একটি প্রেসার কুকার দেখতে পেয়ে তাঁরা তা বের করে মাঠের মাঝখানে রাখেন। সন্দেহজনক প্রেসার কুকারটি দেখে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত ভবানীপুর পুলিশ ক্যাম্পে খবর দেওয়া হয়। বার্তা পেয়ে ভবানীপুর ক্যাম্পের পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানটি কর্ডন করে সাধারণ মানুষের প্রবেশ বন্ধ করে দেন। একই সঙ্গে ঢাকা থেকে পুলিশের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর পাঠানো হয়।
দুপুরের দিকে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। নিরাপত্তার স্বার্থে আশপাশের বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর দুপুর সাড়ে তিনটার দিকে দক্ষ ও সতর্কতার সঙ্গে বোমাটির নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন সদস্যরা।
কারা এবং কী উদ্দেশ্যে রাতের আঁধারে নির্জন মাঠের ড্রামে বোমাটি রেখে গিয়েছিল, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। ঘটনার নেপথ্যের রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্ত করতে সাভার মডেল থানা-পুলিশ এরই মধ্যে জোরদার তদন্ত শুরু করেছে। বোমাটি সফলভাবে নিষ্ক্রিয় করা গেলেও হঠাৎ ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় সাধাপুর এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে কৌতূহল ও তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
সাভারে এ ধরনের বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনা এটাই প্রথম নয়। এর মাত্র এক দিন আগে মঙ্গলবার রাতে হেমায়েতপুরের শ্যামপুর এলাকার একটি তিনতলা ভবনের নিচতলায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। সেখান থেকে পাঁচটি পাইপ বোমা উদ্ধারের পর তা বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করা হয়। ওই অভিযানে বাড়িটি থেকে বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরির রাসায়নিক, গান পাউডার ও বোমাসদৃশ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করে ঢাকায় নিয়ে যায় পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। রাত দেড়টার দিকে অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।
একই সময়ে বরিশাল থেকেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। বুধবার সকালে বরিশাল জেলা ও দায়েরা জজ আদালতের প্রধান ফটকের সামনে হঠাৎ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে পুলিশের পক্ষ থেকে এটিকে ক্ষতিকারক নয় বা ‘পটকা’ বলে দাবি করা হয়েছে। তবে ব্যস্ততম আদালত প্রাঙ্গণে এমন ঘটনায় তৎক্ষণাৎ নিরাপত্তা কড়াকড়ি জোরদার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ, র্যাব এবং সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং আলামত সংগ্রহ শুরু করেন। রাজধানী সংলগ্ন এলাকা থেকে শুরু করে প্রান্তিক আদালত পর্যন্ত পরপর এসব সন্দেহজনক আলামত ও বিস্ফোরণের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে।
মন্তব্য