ডিসেম্বরের প্রথম ২৯ দিনে বাংলাদেশে প্রবাসী আয়ের রেমিট্যান্স প্রবাহ গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, চলতি মাসে প্রবাসীরা মোট ৩০৪ কোটি ১০ লাখ ডলার (৩.০৪ বিলিয়ন ডলার) রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন। এর ফলে গড়ে প্রতিদিন দেশে এসেছে প্রায় ১০ কোটি ৪৯ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।
গত বছরের একই সময়ে, ডিসেম্বরের প্রথম ২৯ দিনে দেশে এসেছে ২৫২ কোটি ১০ লাখ ডলার, যা থেকে দেখা যাচ্ছে, এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। আরিফ হোসেন খান আরও জানান, ২৯শে ডিসেম্বর একদিনে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ১০ কোটি ৫০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।
চলতি অর্থবছর (২০২৪-২৫) জুলাই থেকে ২৯শে ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে এসেছে মোট ১,৬০৭ কোটি ৯০ লাখ ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে প্রাপ্ত রেমিট্যান্সের তুলনায় ১৭.৭০ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করছে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, বৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে রেমিট্যান্স প্রেরণকে উৎসাহিত করতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ এবং প্রণোদনা প্রবাসীদের আস্থার সঙ্গে মিলিত হয়ে এই ঊর্ধ্বগতি সম্ভব হয়েছে। এই প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নিচের টেবিলে চলতি অর্থবছরের মাসিক রেমিট্যান্সের তথ্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:
| মাস | রেমিট্যান্স (ডলার) |
|---|---|
| জুলাই | ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ |
| আগস্ট | ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার |
| সেপ্টেম্বর | ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার |
| অক্টোবর | ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার |
| নভেম্বর | ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার |
| ডিসেম্বর (২৯ দিন) | ৩০৪ কোটি ১০ লাখ |
অতীত বছরের তুলনায় এই মাসিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবাহ দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী আয়ের অবদানকে আরও সুদৃঢ় করেছে। বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসীরা মোট ৩০.৩২ বিলিয়ন ডলার (৩,০৩২ কোটি ৮০ লাখ ডলার) রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা দেশের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রাপ্ত রেকর্ড।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে দৃঢ় রাখতে সহায়ক হবে, একই সঙ্গে স্থানীয় বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া, বৈধ চ্যানেল ব্যবহার ও প্রণোদনার কারণে প্রবাসীরা নিয়মিতভাবে দেশে অর্থ পাঠাচ্ছেন, যা আগামী অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও বিনিয়োগের জন্য ইতিবাচক সঙ্কেত হিসেবে দেখা যাচ্ছে।



