খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 17শে পৌষ ১৪৩২ | ৩১ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
অস্ট্রেলিয়ার প্রখ্যাত বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটার ডেমিয়েন মার্টিন গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং বর্তমানে কৃত্রিম কোমায় রয়েছেন। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, তাকে মেনিনজাইটিস রোগের কারণে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, মেনিনজাইটিস দ্রুত চিকিৎসা না হলে প্রাণঘাতী হতে পারে।
ডেমিয়েন মার্টিনের বয়স বর্তমানে ৫৪ বছর। তিনি গত সপ্তাহে বক্সিং ডে-তে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। শুয়ে থাকা অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়, যার ফলে পরিবারের অনুরোধে তাকে অবিলম্বে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, মার্টিনকে উচ্চমাত্রার বিশেষ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালের কর্মকর্তা জানিয়েছে, তার জীবন রক্ষার জন্য সকল সম্ভাব্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং তার অবস্থা ক্রমাগত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
মার্টিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সাবেক অধিনায়ক অ্যাডাম গিলক্রিস্ট বলেন, “সে সেরা চিকিৎসা পাচ্ছে। আমান্ডা এবং তার পরিবার জানে যে, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ তাদের জন্য প্রার্থনা ও শুভকামনা পাঠাচ্ছে।”
সাবেক অস্ট্রেলিয়া কোচ ড্যারেন লেহমানও সামাজিক মাধ্যমে বার্তা দিয়েছেন, “অনেক ভালোবাসা এবং প্রার্থনা রইল… শক্ত থাকো, লড়াই চালিয়ে যাও, কিংবদন্তি। পরিবারের প্রতি ভালোবাসা।”
ডেমিয়েন মার্টিনের ক্রিকেট কেরিয়ার ছিল উজ্জ্বল ও স্মরণীয়। তিনি ছিলেন স্ট্রোক খেলায় দক্ষ ব্যাটসম্যান এবং স্টিভ ওয়াহর নেতৃত্বাধীন দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। তিনি খেলেছেন:
| ক্যাটেগরি | ম্যাচ সংখ্যা | রান | সেঞ্চুরি | গড় |
|---|---|---|---|---|
| টেস্ট | ৬৭ | ৩,৭৮৭ | ১৩ | ৪৬.৩৭ |
| ওয়ানডে | ২০৮ | ৬,৭৪৫ | ৮ | ৪০.৪৫ |
মার্টিন ২০০৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ফাইনালে অপরাজিত ৮৮ রান করে দলের জয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তিনি রিকি পন্টিংয়ের সঙ্গে জুটির মাধ্যমে ম্যাচ জেতানোর ক্ষেত্রে অবদান রাখেন।
২০০৬ সালে অ্যাশেজ সিরিজের সময় মার্টিন অবসর নেন। খেলোয়াড়ি জীবন শেষ হওয়ার পর তিনি কিছুদিন ধারাভাষ্যে ছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে বেশিরভাগ সময় সাধারণ জনজীবনে নিজেকে সংরক্ষণ করেছেন।
বিশ্ব ক্রিকেট মহলে এখন তার দ্রুত আরোগ্যের জন্য প্রার্থনা ও শুভেচ্ছার ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছে। হাসপাতালের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “মার্টিনের জন্য বিশ্বব্যাপী সমর্থন রয়েছে, যা তার পরিবার ও চিকিৎসক দলের কাছে মানসিক শক্তি যোগাচ্ছে।”