লর্ডস টেস্টের পর পাকিস্তান দলের চেহারায় বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। স্কোয়াডে সাতটি পরিবর্তন এসেছে। ফলে এজবাস্টনে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টে একাদশ সাজাতে অধিনায়ক বাবর আজমকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। একাধিক নতুন মুখের অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনায় পাকিস্তানের একাদশে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশ্রণ দেখা যেতে পারে।
ব্যাটিং বিভাগে আজান আওয়াইস, শান মাসুদ, আবদুল্লাহ শফিক, বাবর আজম ও সৌদ শাকিলের জায়গা প্রায় নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে। লর্ডস টেস্টে আজানের সঙ্গে ওপেন করেছিলেন ইমাম-উল-হক। তবে চোটের কারণে তিনি সেই ম্যাচের কোনো ইনিংসেই ব্যাট করতে পারেননি। এজবাস্টনেও তাঁর খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
ইমামের পরিবর্তে দলে থাকা আবদুল্লাহ ফজল অথবা সাইম আইয়ুবের একজনকে ওপেনিংয়ে দেখা যেতে পারে। ফজল মূলত চোটের কারণে সিরিজের প্রথম দুই টেস্টে খেলতে পারেননি। অন্যদিকে সাইম আইয়ুব দীর্ঘ বিরতির পর টেস্ট দলে ফিরেছেন। সর্বশেষ তিনি প্রায় ১৮ মাস আগে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে মাঠে নেমেছিলেন। ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ থেকে সরাসরি দলে যোগ দেওয়ায় তাঁর প্রস্তুতিও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
পাকিস্তানের ব্যাটিং তালিকার ছয় নম্বর পর্যন্ত পরিবর্তনের সম্ভাবনা তুলনামূলক কম। তবে উইকেটকিপিং বিভাগে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। লর্ডস টেস্টের পর দল থেকে বাদ পড়া মোহাম্মদ রিজওয়ানের জায়গায় গাজি ঘোরির অভিষেক হতে পারে। গত মার্চে বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখা ঘোরি এখন পর্যন্ত পাকিস্তানের হয়ে চারটি ওয়ানডে খেলেছেন। টেস্ট ক্রিকেটে তাঁর অভিজ্ঞতা নেই। তবু পরিস্থিতি বিবেচনায় সাত নম্বরে তাঁকে সুযোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বোলিং বিভাগেও নতুন মুখ দেখা যেতে পারে। ২১ বছর বয়সী পেসার রাজাউল্লাহ প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলার সুযোগ পেতে পারেন। তাঁর অভিষেক হলে পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণে নতুন প্রজন্মের একজন পেসারের অন্তর্ভুক্তি ঘটবে।
স্পিনের দায়িত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে অফ স্পিনার সাজিদ খানের। তবে দল ব্যবস্থাপনা চাইলে এজবাস্টনে স্পিনারবিহীন পুরো পেসনির্ভর আক্রমণও বেছে নিতে পারে। সে ক্ষেত্রে সাইম আইয়ুবের অফ স্পিন বিকল্প হিসেবে কাজে লাগতে পারে।
পেস আক্রমণে উবাইদ শাহর অন্তর্ভুক্তিও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। প্রথম দুই টেস্টে সুযোগ না পাওয়া এই তরুণ পেসার ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে বল করতে সক্ষম। তাঁকে প্রথম দুই টেস্টে না খেলানো নিয়ে নির্বাচক কমিটির প্রধান আকিভ জাভেদ প্রকাশ্যেই সমালোচনা করেছিলেন। ফলে শেষ টেস্টে তাঁর একাদশে জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
অভিজ্ঞ পেসার মোহাম্মদ আব্বাসেরও একাদশে থাকা প্রায় নিশ্চিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে বিশেষজ্ঞ স্পিনার না খেলানোর সিদ্ধান্ত হলে মোহাম্মদ আলীকেও পেস আক্রমণের অংশ করা হতে পারে।
সব মিলিয়ে এজবাস্টনে পাকিস্তানের একাদশে একাধিক পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। ব্যাটিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে কয়েকজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড় থাকলেও উইকেটকিপিং ও বোলিং বিভাগে নতুন মুখের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে দলটিকে। দীর্ঘ বিরতির পর সাইমের প্রত্যাবর্তন, ঘোরির সম্ভাব্য অভিষেক এবং তরুণ পেসারদের সুযোগ পাওয়া—শেষ টেস্টে পাকিস্তানের কৌশলের বড় দিক হয়ে উঠতে পারে।


