খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ই আগস্ট ২০২৬, ৪:২৩ পিএম
একসময় ওয়ানডে ক্রিকেটে বিশ্বশক্তি হিসেবে পরিচিত ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বিশ্বকাপের ইতিহাসে তাদের রয়েছে দুইবারের শিরোপা জয়ের গৌরব। কিন্তু সেই দলটিই এখন টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে সরাসরি জায়গা পাওয়ার লড়াইয়ে ব্যর্থ হলো। ২০১৯ সালে সরাসরি বিশ্বকাপে খেললেও ২০২৩ সালের আসরে বাছাইপর্ব পেরোতে পারেনি ক্যারিবীয়রা। এবার ২০২৭ বিশ্বকাপেও একই পথে হাঁটতে হচ্ছে তাদের।
আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে আফগানিস্তানের দ্বিতীয় ওয়ানডের জয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের শেষ আশাটুকুও শেষ করে দিয়েছে। আফগানিস্তানের ওই জয়ের ফলে ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের যে সমীকরণ তৈরি হয়েছে, তাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় অবস্থানে উঠে সরাসরি বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ আর নেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের।
২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের আয়োজক দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়া। এবারের আসরে অংশ নেবে ১৪টি দল। নির্ধারিত যোগ্যতা কাঠামো অনুযায়ী আয়োজক দেশগুলোর পাশাপাশি র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে সরাসরি মূল পর্বে জায়গা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে কয়েকটি দলের। অন্য দলগুলোকে বাছাইপর্বের কঠিন পথ পেরিয়ে আসতে হবে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের সমস্যার কেন্দ্রবিন্দু ছিল ওয়ানডে র্যাঙ্কিং। মে মাসের বার্ষিক হালনাগাদে বাংলাদেশ ছিল নবম স্থানে, রেটিং ৮৪। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ছিল দশম স্থানে, তাদের রেটিং ৭৪। অন্যদিকে আফগানিস্তান ছিল সপ্তম স্থানে, রেটিং ৯৩। অর্থাৎ শুরু থেকেই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পেছন থেকে উঠে আসার কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছিল।
পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবধান কিছুটা কমানোর সুযোগ তৈরি হলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের অবস্থান যথেষ্ট শক্ত হয়নি। পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের সিরিজ জয়ের পরও বাংলাদেশ নবম অবস্থান ধরে রেখেছে। আফগানিস্তানের জয় ক্যারিবীয়দের জন্য সমীকরণ আরও কঠিন করে দেয়।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে ভারতের বিপক্ষে আরও দুটি ওয়ানডে ছিল। স্বাভাবিকভাবেই ওই ম্যাচগুলোতে জয় পেলে র্যাঙ্কিংয়ে কিছুটা উন্নতির সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু এখন সেই সম্ভাব্য জয়ও সরাসরি বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করার মতো অবস্থানে পৌঁছে দিতে পারবে না। ফলে ক্যারিবীয়দের জন্য ২০২৭ বিশ্বকাপে যাওয়ার পথ নির্ধারিত হয়ে গেছে—বাছাইপর্ব।
দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের জন্য বিষয়টি নিঃসন্দেহে বড় ধাক্কা। ২০২৩ সালের বাছাইপর্বে জিম্বাবুয়েতে অনুষ্ঠিত লড়াইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ মূল বিশ্বকাপে উঠতে ব্যর্থ হয়েছিল। সেই ব্যর্থতার পর এবারও সরাসরি জায়গা হারানো ক্যারিবীয় ক্রিকেটের দীর্ঘমেয়াদি সংকটকেই সামনে আনছে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের সরাসরি যোগ্যতা অর্জনের পথ বন্ধ হয়ে গেলেও বাংলাদেশের লড়াই এখনো শেষ হয়নি। বরং র্যাঙ্কিংয়ের প্রতিটি ম্যাচ বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় অবস্থান ধরে রাখতে না পারলে বাংলাদেশকেও বাছাইপর্বের ঝুঁকিতে পড়তে হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের সম্ভাব্য ওয়ানডে সিরিজ বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। দুই দেশের আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সিরিজটি ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের জন্য পুনর্নির্ধারিত হয়েছে। সূচি অনুযায়ী তিনটি ওয়ানডে হওয়ার কথা ১, ৩ ও ৬ সেপ্টেম্বর। এরপর তিনটি টি-টোয়েন্টি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ৯, ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর।
বাংলাদেশের জন্য এই তিনটি ওয়ানডে শুধু দ্বিপক্ষীয় ক্রিকেটের অংশ নয়; বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা পাওয়ার হিসাবেও এগুলো গুরুত্বপূর্ণ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হলে ফলাফল ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে ভালো ফল বাংলাদেশের অবস্থান আরও মজবুত করতে পারে।
অন্যদিকে সিরিজে প্রত্যাশিত ফল না এলে বাংলাদেশের র্যাঙ্কিং অবস্থান নিয়ে নতুন করে হিসাব করতে হতে পারে। আর সিরিজটি শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত না হলে ওই ম্যাচগুলো থেকে রেটিং অর্জন বা হারানোর সুযোগ থাকবে না। ফলে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থানই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।
সিরিজটি নিয়ে এর আগে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আয়োজনের ব্যাপারে আশাবাদী এবং প্রস্তুতিও এগিয়ে নিচ্ছে। এখন মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে নির্ধারিত সময়ে ওয়ানডেগুলো মাঠে গড়ায় কি না।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে এখন আর র্যাঙ্কিংয়ের মাধ্যমে সরাসরি বিশ্বকাপে যাওয়ার সুযোগ নেই। তাদের লড়াই শুরু হবে বাছাইপর্ব থেকে। সেই লড়াই যে সহজ হবে না, ২০২৩ সালের অভিজ্ঞতাই তার বড় উদাহরণ।
বাংলাদেশ অবশ্য এখনো সেই পরিস্থিতি এড়ানোর সুযোগ রাখে। সরাসরি বিশ্বকাপে জায়গা ধরে রাখতে হলে র্যাঙ্কিংয়ের অবস্থান শক্ত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ ওয়ানডেগুলোতে কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করাই হবে প্রধান লক্ষ্য। বিশেষ করে ভারতের বিপক্ষে সম্ভাব্য সেপ্টেম্বর সিরিজ বাংলাদেশের বিশ্বকাপ-ভাগ্য নির্ধারণের পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ক্যারিবীয় ক্রিকেট যেখানে আবারও বাছাইপর্বের কঠিন পরীক্ষার মুখে, সেখানে বাংলাদেশের সামনে রয়েছে সরাসরি মূল পর্বে যাওয়ার সুযোগ ধরে রাখার লড়াই। তাই সেপ্টেম্বরের প্রতিটি ওয়ানডে এখন বাংলাদেশের জন্য কেবল একটি সিরিজের ম্যাচ নয়—বিশ্বকাপে সরাসরি প্রবেশের দৌড়ে গুরুত্বপূর্ণ একেকটি ধাপ।
মন্তব্য