কক্সবাজার সদর উপজেলায় রাতে বাড়ি ফেরার পথে এক বিকাশ ব্যবসায়ীকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ২২ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই নৃশংস ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় ছাত্রদলের এক নেতার সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী ও তাঁর স্বজনেরা। রোববার (১ নভেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মুন্সিপাড়া এলাকায় এই সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে।
আহত ব্যবসায়ীর নাম মোহাম্মদ সাঈদ। তিনি কক্সবাজার সদরের খরুলিয়া বাজারে ‘ছবিঘর’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী এবং সেখান থেকেই দীর্ঘদিন ধরে বিকাশের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন।
ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে সাঈদের খালাতো ভাই হাবিব জানান, প্রতিদিনের মতো রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে দোকান বন্ধ করে উপার্জিত টাকা সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন সাঈদ। পথিমধ্যে মুন্সিপাড়া এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে আসা দুটি মোটরসাইকেলে থাকা চারজন যুবক হঠাৎ তাঁর গতিপথ রোধ করে দাঁড়ায়। এরপর কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুষ্কৃতকারীরা তাঁকে লক্ষ্য করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে। ধারালো অস্ত্রের নির্মম কোপে সাঈদ রক্তাক্ত হয়ে সড়কে লুটিয়ে পড়লে, তাঁর সঙ্গে থাকা ক্যাশ টাকা ভর্তি ব্যাগটি ছিনিয়ে নেয় সশস্ত্র যুবকেরা। ব্যাগে বিকাশের কেনাবেচার জমা হওয়া মোট ২২ লাখ টাকা ছিল বলে স্বজনেরা নিশ্চিত করেছেন। টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার পরই হামলাকারীরা মোটরসাইকেল চেপে দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।
নিস্তব্ধ রাতে সাঈদের আত্ম চিৎকার ও আর্তনাদ শুনে আশপাশের স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘর থেকে বের হয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তাঁরা রক্তাপ্লুত অবস্থায় সাঈদকে উদ্ধার করে অবিলম্বে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান। বর্তমানে জেলা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে তাঁর চিকিৎসা চলছে এবং তাঁর অবস্থা বেশ আশঙ্কাজনক।
স্বজনদের দাবি, প্রাণপণ প্রতিরোধের চেষ্টা করার সময় সাঈদ আক্রমণকারীদের মধ্যে ঝিলংজা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি খোরশেদকে স্পষ্ট চিনতে পেরেছেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাঈদ পরিবারকে জানান, খোরশেদের প্রত্যক্ষ নির্দেশ ও নেতৃত্বেই এই পরিকল্পিত ছিনতাই ও কোপানোর ঘটনা ঘটেছে। তবে খোরশেদের সঙ্গে থাকা অন্য তিন সহযোগীকে রাতের অন্ধকারের কারণে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে চিনতে পারেননি।
এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, খবর পাওয়ার পরপরই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ও আলামত সংগ্রহ করতে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হচ্ছে। তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করা হবে এবং এ ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে ব্যবসার মূলধন ২২ লাখ টাকা ছিনতাই ও ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় খরুলিয়া বাজারসহ আশপাশের এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা খোরশেদ ও তাঁর সঙ্গীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।


