গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর কঙ্গো নদীতে দুটি নৌকার মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় একটি যাত্রীবাহী নৌকা ডুবে গেছে। এখনো বহু যাত্রী নিখোঁজ থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) ভোরে পশ্চিম ইকুয়েটর প্রদেশের লুকোলেলা অঞ্চলের নগোম্বে শহরের কাছে দুর্ঘটনাটি ঘটে। প্রাদেশিক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিসপিন ম্পুটু দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষের পর যাত্রীবাহী নৌকাটি কঙ্গো নদীতে ডুবে যায় এবং নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার সময় যাত্রীবাহী নৌকাটিতে ১৬৩ জন ছিলেন। এ পর্যন্ত নদী থেকে ২২টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং তাদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। একই সঙ্গে ৫৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে মোট যাত্রীর সংখ্যা, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তি এবং মৃতের হিসাবের মধ্যে যে ব্যবধান রয়েছে, তাতে এখনো উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ নিখোঁজ থাকার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিহতদের সবাই সরকারি হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। অনেক ভুক্তভোগীকে তাঁদের স্বজনেরা নদী থেকে উদ্ধার করে অন্যত্র দাফন করে থাকতে পারেন। সে ক্ষেত্রে সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা প্রকৃত সংখ্যার তুলনায় কম হতে পারে। উদ্ধার ও শনাক্তকরণ কার্যক্রম এগিয়ে গেলে হতাহতের পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রাদেশিক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিসপিন ম্পুটুর ভাষ্য অনুযায়ী, রাজধানী কিনশাসা ও মবান্দাকার মধ্যে চলাচলকারী একটি বাণিজ্যিক নৌকার সঙ্গে মঙ্গালা প্রদেশ থেকে কিনশাসার উদ্দেশে যাওয়া যাত্রীবাহী নৌকাটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর যাত্রীবাহী নৌকাটি দ্রুত ডুবে যায়।
দুর্ঘটনাকবলিত নৌকাটি নদীর প্রায় ১২ মিটার গভীরে নিমজ্জিত রয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। এত গভীরে ডুবে থাকা নৌকায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা কঠিন হওয়ায় নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধারকারীদের বাড়তি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা পর্যন্ত নদীতে উদ্ধার অভিযান চলছিল।
কঙ্গো নদী গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোর একটি। দেশটির বিস্তীর্ণ অঞ্চলে সড়ক যোগাযোগ সীমিত হওয়ায় মানুষ ও পণ্য পরিবহনে নদীপথের ওপর ব্যাপক নির্ভরতা রয়েছে। বিভিন্ন শহর ও প্রত্যন্ত এলাকার মধ্যে যোগাযোগের জন্য নৌযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে বড় কোনো নৌদুর্ঘটনা ঘটলে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষ ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।
এ দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। কীভাবে দুটি নৌযান মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়াল, সেটিও স্পষ্ট নয়। উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর দুর্ঘটনার পরিস্থিতি ও এর কারণ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
এদিকে নিখোঁজ যাত্রীদের স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় পরিবারের সদস্যরা এখনো প্রিয়জনের সন্ধানের অপেক্ষায় রয়েছেন। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের তথ্য, মরদেহ শনাক্তকরণ এবং নিখোঁজদের বিষয়ে পাওয়া নতুন তথ্যের ভিত্তিতে দুর্ঘটনায় হতাহতের চূড়ান্ত সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে।


