কানাডার কুইবেক প্রদেশে একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে পাইলটসহ চারজন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সাঁতে-ব্রিজিদ-দিবেরভিল শহরের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানিয়েছে, হেলিকপ্টারটি রাজধানী মন্ট্রিল থেকে উড্ডয়ন করেছিল। স্থানীয় সময় দুপুর আড়াইটার দিকে শহরটির র্যাং দে ইকোসাইস এলাকায় একটি হাইওয়ের কাছে সেটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। দুর্ঘটনার পর হেলিকপ্টারটিতে আগুন ধরে যাওয়ার আশঙ্কার কথা জানান এক প্রত্যক্ষদর্শী।
সাঁতে-ব্রিজিদ-দিবেরভিল পুলিশের সার্জেন্ট আন্দ্রিয়ে-অ্যানি বিলোদিও বিবিসিকে বলেন, হেলিকপ্টারটিতে পাইলটসহ মোট চারজন ছিলেন। দুর্ঘটনার পর তাদের কেউই বেঁচে নেই। নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার দুপুর ২টার কিছু পর হেলিকপ্টার থেকে একটি জরুরি ফোনকল আসে। একই সময় একজন প্রত্যক্ষদর্শীও পুলিশকে জানান, র্যাং দে ইকোসাইস এলাকায় হাইওয়ের কাছে একটি হেলিকপ্টার বিপদে পড়েছে। সেটিতে আগুন ধরে থাকতে পারে বলেও তিনি জানান।
জরুরি খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে রওনা দেয়। তবে উদ্ধারকারী দল সেখানে পৌঁছানোর আগেই হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়ে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
হেলিকপ্টারটি ব্যক্তিমালিকানাধীন হওয়ায় সেটির যাত্রার উদ্দেশ্য বা চার আরোহীর পরিচয় সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার সঠিক কারণও এখনো জানা যায়নি। যান্ত্রিক ত্রুটি, আবহাওয়া কিংবা অন্য কোনো কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে কি না, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হতে পারে।
ঘটনাটি তদন্তে পুলিশ ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করেছে। দুর্ঘটনাস্থল ঘিরে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং হেলিকপ্টারটির ধ্বংসাবশেষ ও অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা করা হবে। নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাদের স্বজনদের বিষয়ে আরও তথ্য প্রকাশ করতে পারে কর্তৃপক্ষ।
কানাডায় বিমান ও হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সাধারণত উড্ডয়নের পরিস্থিতি, যান্ত্রিক অবস্থা এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যসহ বিভিন্ন তথ্য পরীক্ষা করে থাকে। কুইবেকের এই দুর্ঘটনার ক্ষেত্রেও তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে কীভাবে হেলিকপ্টারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিধ্বস্ত হলো, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সামনে আসার অপেক্ষা রয়েছে।


