গাজীপুরের কালিয়াকৈরে শ্রমিকবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে উল্টে নারীসহ ১৫ শ্রমিক আহত হয়েছেন। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার কুতুবদিয়া এলাকায় মাওনা-কালিয়াকৈর আঞ্চলিক সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে বাসের ভেতরে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধার করেন। আহতদের কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর আহতদের কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জিএমএস টেক্সটাইলের শ্রমিকবাহী বাসটি সকালে বিভিন্ন স্টপেজ থেকে কারখানার শ্রমিকদের তুলে কর্মস্থলের দিকে যাচ্ছিল। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বাসটি কুতুবদিয়া এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। এরপর বাসটি সড়কের পাশে উল্টে যায়।
এ সময় বাসের ভেতরে থাকা শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দুর্ঘটনায় নারী শ্রমিকসহ মোট ১৫ জন আহত হন। স্থানীয়রা তাদের বাস থেকে বের করে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের আঘাত গুরুতর হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানো হয়েছে।
তবে ঠিক কী কারণে চালক বাসটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিলেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। অতিরিক্ত গতি, চালকের অসতর্কতা, সড়কের পরিস্থিতি কিংবা অন্য কোনো কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে কি না, তা তদন্তের পর স্পষ্ট হবে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কুতুবদিয়া এলাকায় একটি বাস দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করেছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিল্পাঞ্চল হিসেবে কালিয়াকৈরের বিভিন্ন কারখানায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক শ্রমিক বাস, মিনিবাস ও অন্যান্য যানবাহনে কর্মস্থলে যাতায়াত করেন। কর্মীদের বহনকারী এসব যানবাহনের নিরাপদ চলাচল তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সকাল ও বিকেলে কারখানামুখী ও কারখানা থেকে ফেরার সময় সড়কে যানবাহনের চাপও বাড়ে।
কুতুবদিয়ার এ দুর্ঘটনায় বড় ধরনের প্রাণহানি না হলেও একই বাসে থাকা ১৫ শ্রমিক আহত হওয়ায় কর্মস্থলে যাতায়াতের নিরাপত্তা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং বাসটির ফিটনেস, চালকের দক্ষতা ও অন্যান্য বিষয় তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।



