গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় হাই-সিকিউরিটি কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. বাহাদুর মিয়াকে প্রায় দুই বছর পর চট্টগ্রাম নগর থেকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৭। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নগরের আকবর শাহ থানার ফয়’স লেক এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার বাহাদুর মিয়ার বয়স ৩৫ বছর। তিনি চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার সিরাজ মিয়ার ছেলে। এসআরবি-৭-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট কাশিমপুর কেন্দ্রীয় হাই-সিকিউরিটি কারাগার থেকে তিনি পালিয়ে যান। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে তিনি পলাতক ছিলেন। প্রায় দুই বছর পর চট্টগ্রামে তাঁর অবস্থানের তথ্য পেয়ে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়।
এসআরবি-৭ জানায়, বাহাদুর মিয়া চট্টগ্রাম নগরের আকবর শাহ থানা এলাকায় আত্মগোপনে আছেন—গোপন সূত্রে এমন তথ্য পাওয়ার পর তাঁকে ধরতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। শুক্রবার দুপুর ১২টা ১০ মিনিটের দিকে ফয়’স লেক এলাকায় অভিযান চালায় এসআরবির একটি দল। সেখান থেকেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সংস্থাটির সহকারী পুলিশ সুপার ও সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন জানান, বাহাদুর মিয়া কাশিমপুর কারাগার থেকে পালানোর ঘটনায় দায়ের করা মামলারও পলাতক আসামি। ২০২৪ সালের ১৫ আগস্ট গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) কোনাবাড়ী থানায় ওই মামলা করা হয়। মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
কারাগার থেকে পালানোর পর বাহাদুর মিয়া কোথায় ছিলেন বা কীভাবে এতদিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়িয়ে ছিলেন, সে বিষয়ে এসআরবি-৭-এর প্রকাশিত তথ্যে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তবে তাঁর চট্টগ্রামে অবস্থানের তথ্য পাওয়ার পর অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
গ্রেপ্তারের পর বাহাদুর মিয়াকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য গাজীপুর মহানগর পুলিশের কোনাবাড়ী থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এখন কারাগার থেকে পালানোর ঘটনায় দায়ের করা মামলাসহ তাঁর বিরুদ্ধে থাকা আইনগত প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়া হবে।
এসআরবি-৭-এর এই অভিযানের মাধ্যমে দীর্ঘদিন পলাতক থাকা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ওই আসামিকে ফের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে নেওয়া হলো। তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলার পরবর্তী কার্যক্রম কোনাবাড়ী থানার মাধ্যমে পরিচালিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।


