গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে একই রাতে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। শনিবার সন্ধ্যায় পঞ্চবটি এলাকায় বাসের ধাক্কায় দুজন এবং রোববার ভোররাতে ফুকরা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আরেকটি দুর্ঘটনায় নসিমনচালক নিহত হন। দুটি ঘটনায়ই স্থানীয়দের মধ্যে শোকের পাশাপাশি মহাসড়কের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কাশিয়ানী উপজেলার পঞ্চবটি এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, মহাসড়কের পাশ দিয়ে হাঁটার সময় অজ্ঞাতনামা একটি বাসের ধাক্কায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ওমর মীর (৭৫) ও জাহিদ মোল্লা (৫০) গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। জাহিদ মোল্লা ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহত অবস্থায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ওমর মীরকে মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ভাঙ্গা হাইওয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। ভাঙ্গা হাইওয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ওবায়দুল কাজী দুজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। পরে মরদেহ দুজনের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
প্রথম দুর্ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই একই মহাসড়কের আরেকটি অংশে ঘটে দ্বিতীয় দুর্ঘটনা। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ভোররাত ৪টার দিকে কাশিয়ানী উপজেলার ফুকরা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি বাসের ধাক্কায় মো. ইব্রাহিম মোল্যা (২৩) নিহত হন। তিনি একটি নসিমন চালাতেন।
নিহত ইব্রাহিম মোল্যা ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বরদী গ্রামের আ. হাকিম মোল্যার ছেলে। ভোররাতে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ভাটিয়াপাড়া হাইওয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে।
ভাটিয়াপাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রোকনুজ্জামান দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, প্রয়োজনীয় প্রাথমিক কার্যক্রম শেষে ইব্রাহিমের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। পরে পরিবারের আবেদনের পর আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
একই মহাসড়কে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক দুটি দুর্ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে মহাসড়কের পাশে পথচারীদের চলাচল এবং বাস ও অন্যান্য যানবাহনের নিরাপদ গতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। তবে দুর্ঘটনাগুলোর সুনির্দিষ্ট কারণ এবং সংশ্লিষ্ট যানবাহনের চালকদের বিষয়ে পুলিশি তদন্তের বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রথম ঘটনায় দুই পথচারীর মৃত্যুর পর সংশ্লিষ্ট বাসটির পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, দ্বিতীয় ঘটনায় নিহত ইব্রাহিমের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হলেও পরে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
দুটি দুর্ঘটনার ঘটনায় নিহত তিনজনের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে বিশেষ করে রাত ও ভোরের সময়ে যান চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও সতর্কতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।


