আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি কিংবা রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে যেসব অবৈধ অস্ত্র সমাজের বিভিন্ন স্তরে ছড়িয়ে পড়েছিল, সেগুলোকে উদ্ধারে দেশজুড়ে চিরুনি অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলায় অভিযান চালিয়ে পুলিশের লুট হওয়া একটি সচল শটগানসহ দুটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং তাজা কার্তুজ উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মো. এয়াকুব খান ওরফে বাবর নামের বত্রিশ বছর বয়সী এক যুবককে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। অবৈধ অস্ত্র বহনের কাজে ব্যবহৃত তার ব্যবহৃত একটি ডিসকভার মোটরসাইকেলও জব্দ করেছে পুলিশ।
রোববার ভোরে জেলার মনোহরগঞ্জ উপজেলার ব্যস্ততম নাথেরপেটুয়া স্টেশন বাজার এলাকায় এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক পবিত্র সরকার এবং উপপরিদর্শক অর্ণব বড়ুয়ার নেতৃত্বে গঠিত একটি বিশেষ আভিযানিক দল সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ওই এলাকায় অবস্থান নেয়। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছিল যে সন্দেহভাজন এক ব্যক্তি অস্ত্র নিয়ে ওই পথ দিয়ে যাতায়াত করবে। সেই অনুযায়ী নাথেরপেটুয়া স্টেশন বাজার এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে একটি ডিসকভার মোটরসাইকেলকে থামার সংকেত দেওয়া হয়।
মোটরসাইকেলের চালক এয়াকুব খানকে আটকের পর তার শরীর ও যানবাহন তল্লাশি করা হয়। তল্লাশির একপর্যায়ে মোটরসাইকেলের বাম পাশে বিশেষভাবে বাঁধা একটি প্লাস্টিকের বস্তার ভেতর থেকে একটি সচল শটগান, দুই রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং একটি দেশীয় তৈরি ওয়ান শুটার গান বা বন্দুক উদ্ধার করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে এবং অস্ত্রসহ মোটরসাইকেলটি জব্দ করে থানায় নিয়ে আসে। গ্রেফতারকৃত এয়াকুব খান নোয়াখালী জেলার সেনবাগ উপজেলার জয়নগর গ্রামের মৃত তৈয়ব খানের ছেলে। বয়সে তরুণ হলেও তার এই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পৃক্ততা এলাকাবাসীকেও চমকে দিয়েছে।
এ বিষয়ে গণমাধ্যমের সাথে কথা বলার সময় কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক পবিত্র সরকার জানান, সুনির্দিষ্ট গোপন খবরের ভিত্তিতে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। চলন্ত মোটরসাইকেলে বস্তাবন্দী অবস্থায় অস্ত্র বহন করার সময় হাতেনাতে আসামিকে ধরা সম্ভব হয়।
ঘটনার গভীরতা বিশ্লেষণ করে কুমিল্লা ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শামছুল আলম শাহ জানান, উদ্ধার হওয়া শটগানটি গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও অস্থিরতার সময় দেশের বিভিন্ন থানা বা পুলিশ ক্যাম্প থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের অংশবিশেষ হতে পারে। অস্ত্রটির গায়ে থাকা বিভিন্ন আলামত যাচাই করে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই চক্রের সাথে আরও অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা উদঘাটনের জন্য তদন্ত চলছে।
রোববার বিকেলে সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর গ্রেফতারকৃত এয়াকুব খানকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।



