খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ই মার্চ ২০২৬, ১১:২৭ এএম
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বুধবার (১১ মার্চ) ঘোষণা করেছে যে তারা কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত একাধিক মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই হামলা আমেরিকা ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার অংশ হিসেবে সংঘটিত হয়েছে।
আইআরজিসি-র নিজস্ব সংবাদ মাধ্যম ‘সেপাহ নিউজ’ এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাহরাইনের মিনা সালমান বন্দর অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের প্রধান স্নায়ু কেন্দ্র এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এই বন্দরটি অঞ্চলে মার্কিন নৌ-তৎপরতার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় মার্কিন পক্ষ উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
কুয়েতেও সমন্বিত হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে আইআরজিসি। তাদের তথ্যমতে, নিম্নলিখিত ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানো হয়েছে:
| কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটি | লক্ষ্যবস্তু | হামলার ধরণ | ক্ষতির বিবরণ |
|---|---|---|---|
| ক্যাম্প প্যাট্রিয়ট | সৈন্য ও সরঞ্জাম | ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন | আবাসন ও সরঞ্জাম হ্যাঙ্গারে ক্ষতি |
| মোহাম্মদ আল-আহমাদ | সৈন্য ও জমায়েত কেন্দ্র | ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন | বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি |
| আলি আল-সালেম | সৈন্য ও সরঞ্জাম | ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন | সামরিক সরঞ্জাম ও আবাসনে ক্ষতি |
| ক্যাম্প বুয়েরিং | আবাসন ও সরঞ্জাম | ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন | মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত |
আইআরজিসি জানিয়েছে, হামলার লক্ষ্য ছিল মূলত মার্কিন সৈন্যদের আবাসন ও সামরিক সরঞ্জাম। তারা দাবি করেছে, এই হামলার মাধ্যমে মার্কিন বাহিনী বড় ধরনের ক্ষতি এবং operational ব্যাঘাতের মুখোমুখি হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেবে। বাহরাইন ও কুয়েতের সামরিক ঘাঁটিগুলো এই অঞ্চলে মার্কিন নৌ-সামরিক শক্তির মূল কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়। এর ফলে সামরিক ও কূটনৈতিক উভয় ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হতে পারে।
আইআরজিসি-এর এই ঘোষণার পর কুয়েত ও বাহরাইনের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলো জোরদার করা হয়েছে এবং মার্কিন পক্ষ আঞ্চলিক ঘাঁটিতে তৎপরতা বাড়িয়েছে।
এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি উত্তেজনার নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও তেলের বাজারকেও প্রভাবিত করতে পারে।
মন্তব্য