কৃষ্ণচূড়ার মোহনীয় রূপে আকুল পথিকের হৃদয়

ভিনদেশি বৃক্ষ হলেও এই বাংলার ভূমিই যেন তার আপন ঠিকানা। এদেশের প্রকৃতি তাকে যেমন আপন করে নিয়েছে তেমনি তাকে আপন করে নিয়েছে এদেশের লেখক কবি এমনকি পথিকের হৃদয়।

কৃষ্ণচূড়া একটি বৃক্ষ জাতীয় উদ্ভিদ যার বৈজ্ঞানিক নাম ডেলোনিক্স রেজিয়া(Delonix regia)। এটি ফ্যাবেসি (Fabaceae)পরিবারের অন্তর্গত একটি বৃক্ষ যা গুলমোহর নামেও পরিচিত।

গ্রীষ্মের অতি পরিচিত ফুল কৃষ্ণ চূড়া। বাংলা কবিতা, সাহিত্য, গান ও বিভিন্ন উপমায় কৃষ্ণচূড়া ফুলের কথা এসেছে নানা ভঙ্গিমায়। কখনো কবির মনে নানা অনুভূতি সৃষ্টি করেছে আবার কখনো প্রেমিক হৃদয়ে সৃষ্টি করেছে অনবদ্য কাব্য।

‘কৃষ্ণচূড়ার রাঙা মঞ্জুরি কর্ণে-আমি ভুবন ভুলাতে আসি গন্ধে ও বর্ণে’ কবি কাজী নজরুল ইসলামের এই গান আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় কৃষ্ণচূড়া আমাদের মননে কতটা গভীর ছাপ ফেলেছে।

রাস্তার মোড়ে মোড়ে সবুজ সবুজ চিকন পাতার ফাঁকে ফাঁকে লাল লাল কৃষ্ণচূড়া ফুল দেখলেই যেন চোখ জুড়িয়ে যায়। মন নেচে ওঠে আনন্দে।

কৃষ্ণচূড়া গাছের লাল ফুল এবং উজ্জ্বল সবুজ পাতা একে অন্যরকম দৃষ্টিনন্দন করে তোলে ।

কৃষ্ণচূড়াকে সাধারণত আমরা লাল রঙেই দেখে অভ্যস্ত হলেও উদ্ভিদ বিজ্ঞানীরা বলছেন, কৃষ্ণচূড়া লাল, হলুদ ও সাদা রঙেরও হয়ে থাকে। তবে আমাদের দেশে লাল ও হলুদ রঙের ফুল দেখা গেলেও সাদা রঙের কৃষ্ণচূড়ার দেখা মেলেনা।

পত্রঝরা এই উদ্ভিদটির পাতা শীতকালে ঝরে যায় আর বসন্তে আসে নতুন কুড়ি। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কৃষ্ণচূড়ার ফুল ফোটার সময় ভিন্ন ভিন্ন হয়। কৃষ্ণচূড়ার জন্মানোর জন্য উষ্ণ বা প্রায়-উষ্ণ আবহাওয়ার দরকার। এই বৃক্ষ শুষ্ক ও লবণাক্ত অবস্থা সহ্য করতে পারে। এই গাছ বাংলাদেশ সহ ভারত, ক্যারাবিয়ান অঞ্চল, আফ্রিকা, হংকং, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, তাইওয়ান, দক্ষিণ চীনে জন্মে।

শুধু রূপ নয়ে গুনেও অতুলনীয় এই কৃষ্ণচূড়া। এর পাতা, মূলের বাকল ও ফুল ভেষজ গুণাগুণ সম্পন্ন যা জ্বর ও খুশকি নিরাময়ের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। ভেষজটি হেমিপ্লেজিয়া, আর্থরাইটিস এবং কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়। কৃষ্ণচূড়া গাছের শিকড়, বাকল এবং ফুল সবই পরজীবী সংক্রমণ নিরাময়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।

শ্বাসকষ্টের সমস্যায় কৃষ্ণচূড়ার ফুলের ব্যবহারের কথা জানা যায়। এছাড়াও জ্বর নিরাময়ে, পেটের সমস্যায়, দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্যে, কলেরা, খিঁচুনি, মাড়ির সমস্যায়, দাঁতের ক্ষয়, মুখের ঘা এবং মাড়ির রক্তপাত, ম্যালেরিয়া, কিডনির পাথর, চোখ পরিষ্কার রাখতে এবং ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ থেকে মুক্ত পেতে আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে কৃষ্ণ চূড়ার ফুল পাতা এবং মূলের ব্যবহারের কথা জানা যায়।  

গ্লোবাল ওয়ার্মিং কমানোর জন্য কৃষ্ণচূড়া গাছ লাগানো খুবই কার্যকরী উপায় বলে মনে করেন পরিবেশ বিজ্ঞানীরা।

নান্দনিক এই ফুলটি আরো নান্দনিক হয়ে ওঠে বর্ষার দিনে। এমন নান্দনিক সুন্দরের ভরে উঠুক আমাদের শহর কিংবা শহরতলী।

খবরওয়ালা/এসআর

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Are you human? Please solve:Captcha


সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।