বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের জন্য বিশ্বজুড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে পরিচিত অস্ট্রেলিয়ার মারকুটে ব্যাটার ক্রিস লিন। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বড় শট খেলার সামর্থ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দর্শকদের নজর কেড়েছেন তিনি। তবে এবার মাঠের পারফরম্যান্স নয়, কোকেন সেবনের ঘটনায় আলোচনায় এসেছেন এই ক্রিকেটার। এ ঘটনায় ইংল্যান্ডের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা তাকে এক মাসের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। সেই শাস্তির মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে লিনের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিস্তারিত প্রকাশ করে ইংল্যান্ডের ক্রিকেট রেগুলেটর। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ জুলাই ইংল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টের ফাইনালস ডে চলাকালে নিয়মিত ডোপ পরীক্ষায় পজিটিভ হন ৩৬ বছর বয়সী এই অস্ট্রেলীয় ব্যাটার। সে সময় তিনি নর্দাম্পটনশায়ার স্টিলব্যাকসের হয়ে খেলছিলেন।
পরীক্ষায় লিনের নমুনায় স্বল্পমাত্রায় বেনজয়লেকগোনিনের উপস্থিতি পাওয়া যায়। এটি কোকেন সেবনের পর মানবদেহে তৈরি হওয়া একটি বিপাকজাত পদার্থ। সাধারণত কোকেন গ্রহণের বিষয়টি শনাক্ত করতে পরীক্ষায় এই উপাদানের উপস্থিতি বিবেচনা করা হয়। পরীক্ষার ফলাফল সামনে আসার পর নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ স্বীকার করে নেন লিন।
ইংল্যান্ডের ক্রিকেট রেগুলেটর এক বিবৃতিতে জানায়, নর্দাম্পটনশায়ার স্টিলব্যাকসের সাবেক ক্রিকেটার ক্রিস লিনকে এক মাসের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে নিষেধাজ্ঞার সেই মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে লিনের শাস্তির মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছিল তিন মাস। কিন্তু মাদকাসক্তি-সংক্রান্ত পুনর্বাসন কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করায় তার শাস্তি কমিয়ে এক মাস করা হয়। শাস্তির মেয়াদ পুনর্নির্ধারণের ক্ষেত্রে তার পুনর্বাসন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ ও সফলভাবে তা শেষ করার বিষয়টি বিবেচনায় নেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
এ ছাড়া কোকেন সেবনের ঘটনাটি প্রতিযোগিতার বাইরে ঘটেছিল বলে জানিয়েছে ক্রিকেট রেগুলেটর। সংস্থাটির মূল্যায়নে, এর সঙ্গে মাঠে পারফরম্যান্স বাড়ানোর কোনো সম্পর্ক ছিল না। অর্থাৎ, প্রতিযোগিতায় বাড়তি সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি কোকেন গ্রহণ করেননি। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই প্রাথমিকভাবে নির্ধারিত তিন মাসের পরিবর্তে এক মাসের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়।
অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় দলের হয়ে লিনের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার খুব দীর্ঘ না হলেও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে তার পরিচিতি ব্যাপক। দেশটির হয়ে চারটি ওয়ানডে ও ১৮টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন তিনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তুলনায় বিভিন্ন দেশের ঘরোয়া ও ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রতিযোগিতায় বেশি সাফল্য ও পরিচিতি পেয়েছেন এই ব্যাটার।
বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তার আক্রমণাত্মক ব্যাটিং ছিল অন্যতম শক্তি। দ্রুত রান তোলা, বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করা এবং ছক্কা হাঁকানোর সামর্থ্যের কারণে বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজির কাছে তিনি পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ লিগেও খেলেছেন তিনি।
তবে নিষেধাজ্ঞা-সংক্রান্ত ঘটনা সামনে আসার পর থেকে পেশাদার ক্রিকেটে আর মাঠে নামেননি লিন। আসন্ন বিগ ব্যাশ লিগের মৌসুমের জন্যও এখন পর্যন্ত কোনো দলের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হননি তিনি। ফলে শাস্তির মেয়াদ শেষ হলেও তার প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।
নিয়মগতভাবে এক মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় এই ঘটনায় ক্রিকেটে ফেরার পথে লিনের সামনে আর কোনো বাধা নেই। তবে দীর্ঘ বিরতির পর কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি তাকে দলে নেওয়ার আগ্রহ দেখাবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। তার ক্রিকেটীয় ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে নতুন করে কোনো দলের সঙ্গে চুক্তি এবং মাঠে ফেরার সুযোগ পাওয়ার ওপর।


