কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় মাদকবিরোধী পুলিশের পৃথক দুটি অভিযানে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) রাতে এবং বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে খোকসা থানা পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রথম অভিযানটি পরিচালিত হয় বুধবার রাত ১০টা ৩০ মিনিটে উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়নের কালিবাড়ী সংলগ্ন একটি ইটের রাস্তায়। সেখানে অভিযান চালিয়ে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা হলেন রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার গাড়াল গ্রামের মো. আসাদুল ইসলাম ওরফে কালু (৩৪) এবং কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার ধুশুন্ড গ্রামের মো. সোহাগ প্রামাণিক (৩১)।
এরপর দ্বিতীয় অভিযান পরিচালনা করা হয় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টা ১৫ মিনিটে। এ সময় উপজেলার গোপগ্রাম পূর্বপাড়া এলাকায় আড়ুয়াপাড়া থেকে আমলাবাড়ী বাজারগামী পাকা সড়কে মো. জিহাদ হোসেনের বাড়ির সামনে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকে মো. ছালাম প্রামাণিক (৪৩) নামের আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি খোকসা উপজেলার আমলাবাড়ী মাঠপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
খোকসা থানা পুলিশ জানিয়েছে, প্রথম অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া আসাদুল ইসলাম ও সোহাগ প্রামাণিকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তবে এসব মামলার ধরন কিংবা বিস্তারিত তথ্য সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। অন্যদিকে, দ্বিতীয় অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ছালাম প্রামাণিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যও প্রকাশ করা হয়নি।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পৃথক দুটি অভিযানে গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে অভিযানে উদ্ধার হওয়া ইয়াবার সুনির্দিষ্ট সংখ্যা সম্পর্কে দেওয়া তথ্যে বিস্তারিত উল্লেখ নেই।
এলাকায় মাদকদ্রব্যের কেনাবেচা ও সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে খোকসা থানা পুলিশ। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধ প্রতিরোধের লক্ষ্যেই এসব তৎপরতা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
স্থানীয় পর্যায়ে মাদকের বিস্তার রোধ করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকা, সড়কপথ এবং জনবসতিপূর্ণ স্থানে মাদক কেনাবেচা ও সরবরাহের বিরুদ্ধে নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন। পুলিশের অভিযান অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখলেও দীর্ঘমেয়াদে মাদকের বিস্তার কমাতে সামাজিক সচেতনতা, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও জরুরি।
খোকসা থানা পুলিশ জানিয়েছে, মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধ এবং উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।


