খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ই জুলাই ২০২৬, ৫:১৬ পিএম
দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বমঞ্চে প্রত্যাবর্তন করেই ফুটবল দুনিয়াকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল নরওয়ে। ২০২৬ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার ঐতিহাসিক গৌরব অর্জন করে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান অঞ্চলের এই দেশটি। মহোৎসবের এই স্মরণীয় অভিযান শেষে জাতীয় ফুটবল দলটি যখন মাতৃভূমিতে পা রাখে, তখন পুরো দেশজুড়ে তৈরি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ। আর্লিং হালান্ড ও মার্টিন ওডেগার্ডদের বরণ করে নিতে রাজধানী অসলোর রাস্তায় নেমে আসে লাখো মানুষের ঢল।
খেলোয়াড়দের এই অসামান্য অর্গানকে সম্মান জানাতে রাষ্ট্র ও সাধারণ জনগণ কোনো কমতি রাখেনি। নরওয়ে ফুটবল দলের অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে সেই রাজকীয় বরণের চিত্র ফুটে ওঠে। ভিডিওতে দেখা যায়, নরওয়ের জাতীয় দলকে বহনকারী বিমানটি যখন দেশের আকাশসীমায় প্রবেশ করে, তখন সেটিকে সম্মান জানিয়ে নরওয়েজিয়ান বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান চারপাশ থেকে পাহারা (এসকর্ট) দিয়ে অসলো বিমানবন্দর পর্যন্ত নিয়ে আসে। রানওয়েতে নামার পর থেকেই শুরু হয় উৎসবের মূল আমেজ। বিমানবন্দরে ফুটবলারদের স্বাগত জানাতে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন দেশের রাজপরিবারের সম্মানিত সদস্যরা এবং হাজার হাজার উদ্বেলিত সমর্থক।
বিমান থেকে নামার সময় দলের তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ডের একটি কাণ্ড উপস্থিত সবাইকে বেশ বিনোদন দেয়। দেখা যায়, তাঁর এক হাতে ধরা ছিল একটি খালি বোতল এবং অন্য হাতে ছিল একটি তুলতুলে খেলনা বা স্টাফড ‘র্যাকুন’। বিশ্বসেরা এই স্ট্রাইকারের এমন অদ্ভুত ও ব্যতিক্রমী জিনিসপত্র নিয়ে বিমান থেকে নামার দৃশ্যটি ক্যামেরাবন্দি হতে বেশি সময় নেয়নি। মুহূর্তের মধ্যেই সেই ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশ্বজুড়ে ফুটবল ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক হাসির রোল ও আলোচনার জন্ম দেয়।
অসলোর মূল চত্বরে নরওয়ের রাজপরিবারের সদস্যরা সাধারণ সমর্থকদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে উল্লাসে মেতে ওঠেন। এবারের বিশ্বকাপে নরওয়ে দলের হাত ধরে বিশ্বজুড়ে দারুণ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল তাদের ঐতিহ্যবাহী ‘ভাইকিং রো’ উদযাপন। সেই চেনা ছন্দ ধরে রেখে যুবরাজ হাকোন নিজে বিশাল এক ঢোল বাজিয়ে এই উদযাপনের নেতৃত্ব দেন।
বিশ্বকাপের মাঠে ম্যাচ জেতার পর দলের অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড ও ফরোয়ার্ড আর্লিং হালান্ড ঠিক যেভাবে এই উদযাপনের সুর তুলেছিলেন, অসলোর রাজকীয় মঞ্চেও সেই একই ভঙ্গি অনুসরণ করা হয়। নরওয়ের রাজকীয় পরিবারের এমন সাধারণ ও প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ পুরো আয়োজনকে আরও বর্ণিল করে তোলে।
বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ফুটবলারদের জন্য একটি সুসজ্জিত খোলা ছাদের বাসের ব্যবস্থা করা হয়। সেই বাসে চড়ে পুরো অসলো শহরজুড়ে এক বিশাল বিজয় শোভাযাত্রা বের করে দলটি। রাস্তার দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা লাখো সমর্থক করতালি ও স্লোগানে মুখরিত করে তোলেন চারপাশ। খেলোয়াড় ও ভক্তরা একে অপরকে হাত নেড়ে নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে স্মরণীয় এই পথচলার জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
উল্লেখ্য, আমেরিকার মায়ামিতে অনুষ্ঠিত তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহামের অতিরিক্ত সময়ের এক নাটকীয় গোলে নরওয়ের ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ যাত্রার অবসান ঘটেছিল। নরওয়েকে বিদায় করে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার টিকিট পেয়েছিল ইংলিশরা। তবে ম্যাচ হারলেও দেশের মানুষের মন জয় করে নিয়েছেন হালান্ডরা, যার প্রমাণ দিল অসলোর এই রাজকীয় সংবর্ধনা।
মন্তব্য