খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
খুলনার বটিয়াঘাটায় পৈতৃক জমিতে দোকান তোলাকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক মুদি ব্যবসায়ী রেজাউল শেখ হত্যা মামলায় তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২৭ জুলাই ২০২৬) খুলনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-৪ আদালতের বিচারক মো. খুরশীদ আলম এই চাঞ্চল্যকর রায় ঘোষণা করেন। মামলায় আনীত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত এরশাদ নামে অপর এক আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—আ. সালাম এবং তার দুই ছেলে মো. খুরশিদ আলম (৩৫) ও মো. খায়রুল শেখ (২৮)। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, বটিয়াঘাটা উপজেলার ঝালবাড়ি এলাকার বাজারে ২০১৮ সালের ৩১ মার্চ সকাল ৮টার দিকে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। দীর্ঘদিন ধরে পৈতৃক সম্পত্তি ও দোকানঘর তৈরি করা নিয়ে আসামিদের সঙ্গে বিরোধ চলছিল ব্যবসায়ী রেজাউল শেখের। ঘটনার দিন সকালে পরিকল্পিতভাবে অভিযুক্তরা বাঁশের লাঠি ও কাঠের বাতা নিয়ে রেজাউলের ওপর চড়াও হয়। এলোপাতাড়ি পিটিয়ে তাকে মারাত্মকভাবে রক্তাক্ত ও আহত করা হয়।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। তবে আঘাত গুরুতর হওয়ায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানেই মারা যান এই মুদি ব্যবসায়ী।
হত্যাকাণ্ডের তীব্রতায় পুরো ঝালবাড়ি গ্রামে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ওই দিনই (৩১ মার্চ ২০১৮) নিহতের ছোট ভাই মেঝবাহ উদ্দিন বাদী হয়ে বটিয়াঘাটা থানায় চারজনকে অভিযুক্ত করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামি করা হয় স্থানীয় কলম বক্সের ছেলে আ. সালাম, তার দুই ছেলে খুরশিদ আলম ও খায়রুল শেখ এবং একই এলাকার কালা বাবুর ছেলে এরশাদকে।
মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ১১ সেপ্টেম্বর পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক মো. গোলাম রসুল চার আসামির বিরুদ্ধে আদালতে মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।
পরবর্তীতে সাক্ষ্যগ্রহণ ও দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত এই গুরুত্বপূর্ণ রায় প্রদান করেন। রাষ্ট্রপক্ষ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও সাক্ষীদের জবানবন্দির মাধ্যমে আসামিদের অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হওয়ায় আদালত তিনজনকে সর্বোচ্চ সাজা হিসেবে প্রাণদণ্ডের আদেশ দেন। নিহত রেজাউলের পরিবার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত সাজা কার্যকর করার দাবি জানিয়েছে।